মা ও বিবাহিত হয়েও ‘মিস ইউএসএ’ জিতে ইতিহাস গড়লেন জাস্টাস কেলি

অনলাইন ডেস্ক:

প্রথমবারের মতো কোনো মা ‘মিস ইউএসএ’ প্রতিযোগিতার মুকুট জিতেছেন। ৩১ বছর বয়সী মিস ভার্জিনিয়া ইউএসএ জাস্টাস কেলি বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ৭৫তম আসরে বিজয়ী হন। ৫১ প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা হয়ে তিনি একই সঙ্গে এই প্রতিযোগিতার প্রথম বিবাহিত বিজয়ী এবং ৩০-এর কোঠায় থাকা প্রথম নারী হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন।

 

৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘মিস ইউএসএ’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম ছিল। বিবাহিত নারী ও মায়েদের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। বয়সের সীমাও ছিল ১৮ থেকে ২৮ বছর।

 

তবে ২০২২ সালের আগস্টে ‘মিস ইউএসএ’ কর্তৃপক্ষ নিয়ম পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। ২০২৩ সাল থেকে বিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত এবং মা হয়েছেন এমন নারীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালে প্রতিযোগীদের বয়সসীমাও বাতিল করা হয়।

 

বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন কেলি। এক ভিডিওতে তিনি বলেন, “এই সুযোগ আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ৭৫তম বার্ষিকীর সঙ্গে আমরা আজ ইতিহাসও তৈরি করেছি।”

 

কেলি জানান, তিনি প্রথম বিবাহিত নারী, প্রথম মা এবং ৩০-এর কোঠায় থাকা প্রথম নারী হিসেবে ‘মিস ইউএসএ’ জিতেছেন।

 

কেলি ও তার স্বামী টাইলার একজন ছেলে ও একজন মেয়ের পালক বাবা-মা। এর আগে ‘পিপল’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেলি জানিয়েছিলেন, তার স্বামী তার কলেজজীবনের প্রিয় মানুষ। সম্পর্কের শুরুর দিকেই টাইলার তাকে জানিয়েছিলেন, তিনিও ভবিষ্যতে শিশুদের পালক অভিভাবক হতে চান।

 

কেলির ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের ১৩ বছর পর তারা সাত মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের নিজেদের ঘরে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে যেকোনো বয়স, জাতি, পরিচয় বা পটভূমির শিশু নিজেকে নিরাপদ ও মূল্যবান মনে করতে পারে।

 

‘মিস ইউএসএ’তে কেলির এই ঐতিহাসিক জয় এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রতিযোগিতাটির আয়োজকরা একটি মামলাকে ঘিরে বিতর্কে রয়েছে।

 

গত মাসে ২৭ বছর বয়সী ব্রিটানি বোল্টিনহাউস ‘মিস নর্থ ক্যারোলাইনা ইউএসএ’ নির্বাচিত হয়েছিলেন। চলতি মাসে তার সেই খেতাব কেড়ে নেয় আয়োজকরা। এ সময় তারা শুধু ‘সম্প্রতি সামনে আসা তথ্যের’ কথা উল্লেখ করেছিল। পরে রানারআপ মাইলা হ্যাডলি তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

 

আয়োজকরা তখন ঠিক কোন তথ্যের ভিত্তিতে বোল্টিনহাউসের খেতাব বাতিল করেছে, তা বিস্তারিত জানায়নি। তবে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটে ২০১৭ ও ২০১৯ সালের তার কিছু পোস্টে বর্ণবাদী গালি ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে।

 

‘মিস ইউএসএ’র চেয়ারম্যান থম ব্রডিউর পরে এক বিবৃতিতে বলেন, সংগঠনটি বর্ণবাদ, সমকামীবিদ্বেষ, ট্রান্সফোবিয়া কিংবা কোনো ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন ভাষা সহ্য করে না। তার দাবি, সিদ্ধান্তটি কোনো একক ঘটনার ভিত্তিতে নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের আচরণ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

 

এরপর বোল্টিনহাউস আইনি পদক্ষেপ নেন। মামলায় তার আইনজীবীরা ‘মিস ইউএসএ’ ও নর্থ ক্যারোলাইনার অফিসিয়াল ‘মিস ইউএসএ’ প্রতিযোগিতার নির্বাহী প্রযোজক ও স্টেট লাইসেন্সধারী এ ব্লেইজ প্রোডাকশনসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বোল্টিনহাউসকে বর্ণবাদ, সমকামীবিদ্বেষ, ট্রান্সফোবিয়া ও সংকীর্ণতার অভিযোগের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে।

 

বোল্টিনহাউস নিজেকে ‘গর্বিত রক্ষণশীল’ ও ‘ঈশ্বরভীরু’ নারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহারের কারণে নয়, বরং তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থানের কারণেই মুকুট কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

 

মামলায় অবশ্য তিনি মুকুট ফিরিয়ে দেওয়া, পদ পুনর্বহাল, প্রতিযোগিতা পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা কিংবা চুক্তিভিত্তিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেননি। তবে তার সুনাম ও সামাজিক অবস্থানের ক্ষতি, অপমান, মানসিক কষ্ট এবং পেশাগত ও অর্থনৈতিক সুযোগ হারানোর অভিযোগে জুরির নির্ধারিত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।

 

এ ব্লেইজ প্রোডাকশনস অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বোল্টিনহাউসকে তার রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা সেই বিশ্বাস প্রকাশের কারণে সরানো হয়নি। প্রতিযোগী ও বিজয়ীদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাস রাখার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

 

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বোল্টিনহাউসের মুকুট পরার পর আগে অপ্রকাশিত কিছু তথ্য এবং প্রকাশ্যে থাকা কিছু উপকরণ তাদের নজরে আসে। সেগুলো পর্যালোচনা করে বোল্টিনহাউসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং জাতীয় সংগঠনের সঙ্গে পরামর্শের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের ভাষ্য, সিদ্ধান্তটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে নয়, বরং তার আচরণ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ প্রতিযোগিতার শিরোপাধারীর দায়িত্ব ও মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে।

 

এ ব্লেইজ আরও জানিয়েছে, সিদ্ধান্তের কারণগুলো বোল্টিনহাউসকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল এবং তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে উদ্বেগের বিষয়গুলো আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।

 

মামলা নিয়ে আইনি যোগাযোগ শুরু হওয়ায় ব্যক্তিগত কথোপকথন, অডিও রেকর্ডিং, নির্দিষ্ট প্রমাণ বা অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আলোচনা করা সমীচীন নয় বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে তারা নিজেদের অনুসরণ করা প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে।

 

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, বোল্টিনহাউসের বিরুদ্ধে হয়রানি, হুমকি, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা নিপীড়নকে তারা সমর্থন করে না। তাদের সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অনুমতি হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।