চেরকি-হালান্ডের জোড়া গোলে প্যালেসকে উড়িয়ে শীর্ষে সিটি

অনলাইন ডেস্ক:

ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে নতুন প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। রায়ান চেরকি ও আর্লিং হালান্ড দুজনই জোড়া গোল করেছেন। এই জয়ে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠেছে এন্টসো মারেস্কার দল।

 

শুক্রবার সেলর্হাস্ট পার্কে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সিটি। ৭০ শতাংশের বেশি সময় বল নিজেদের দখলে রেখে গোলের জন্য ১৮টি শট নেয় তারা, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে প্যালেসের নয় শটের মাত্র একটি লক্ষ্যে ছিল।

 

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করে স্বাগতিকরা। রুবেন দিয়াসের চ্যালেঞ্জ সামলে এডি এনকেটিয়ার কাছের পোস্টে নেওয়া শট কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন সিটির ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। চার মিনিটের ব্যবধানে সিটিরও হতাশ হওয়ার পালা আসে। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের জোরালো শট ঝাঁপিয়ে এক হাতে ঠেকান প্যালেস গোলরক্ষক ডিন হ্যান্ডারসন।

 

১৭ মিনিটে অবশ্য আর সুযোগ নষ্ট করেনি সিটি। অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর বাড়ানো ক্রস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান হালান্ড। তার শট ক্রসবার ঘেঁষে জালে জড়ায়।

 

প্যালেসের বিপক্ষে এটি হালান্ডের টানা ষষ্ঠ ম্যাচে গোল। এই ছয় ম্যাচে নরওয়ের এই তারকার গোলসংখ্যা দাঁড়াল নয়টিতে। প্রিমিয়ার লিগে নির্দিষ্ট একটি দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এটি।

 

২১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল সিটি। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের বাড়ানো বল ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ফিল ফোডেন। তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় সফরকারীরা।

 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পাল্টা আক্রমণে সিটির রক্ষণে চাপ তৈরি করে প্যালেস। বাঁ দিকের বাইলাইন থেকে মিচেলের কাটব্যাক পেয়ে এনকেটিয়া শট নেন। তবে বলটি দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

 

৫৪ মিনিটে সিটির ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রায়ান চেরকি। ডি-বক্সে ফোডেনের পাস পেয়ে একজনকে কাটিয়ে দুজনের মাঝ দিয়ে শট নেন তিনি। বল জালে জড়িয়ে যায়। আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দলের দুটি গোলে সহায়তা করা চেরকি এবার শুরুর একাদশে নেমেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন।

 

তবে দুই মিনিট পরই ব্যবধান কমায় প্যালেস। ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এসে দোন্নারুম্মার পিঠে লাগে এবং জালে ঢোকে। ফলে সিটির লিড নেমে আসে ২-১-এ।

 

প্যালেসের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৫৯ মিনিটে আবারও গোল করেন চেরকি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার জোরালো শট প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে সামান্য দিক বদলে যায়। এতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন হ্যান্ডারসন, বল জড়িয়ে যায় জালে। প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারে এটিই চেরকির প্রথম জোড়া গোল।

 

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় সিটি। ৮২ মিনিটে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডার আয়ুব বুয়াদি। আগের দিন তাকে নিয়ে ধৈর্য ধরার কথা বললেও অভিষেক করাতে বেশি সময় নেননি সিটি কোচ।

 

দুই মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান হালান্ড। ফোডেন বল পায়ে অনেকটা এগিয়ে ডি-বক্সে পাস বাড়ালে কোনাকুনি শটে বাকি কাজ সারেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার। তার গোলে সিটির জয় নিশ্চিত হয় ৪-১ ব্যবধানে।

 

এই জয়ে মৌসুমের শুরুটা দারুণ হলো ম্যানচেস্টার সিটির। দুই ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠেছে তারা। অন্যদিকে দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই হারল ক্রিস্টাল প্যালেস।