নিজস্ব প্রতিবেদক:
হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পেইনের জন্য অধিকাংশ টিকা ইতোমধ্যে ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবারের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজে ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজঅ্যাবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল।
হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় সরকার চলতি বছরের এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছিল। জরুরি ভিত্তিতে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বা পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু হয়। এরপর ১২ এপ্রিল চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মসূচি চালু হয়। ২০ এপ্রিল থেকে একই বয়সি শিশুদের জন্য সারা দেশে টিকাদান শুরু হয়ে ২০ মে তা শেষ হয়।
কিন্তু ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও হামের সংক্রমণ অব্যাহত থাকে। এর পর সরকার মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ কার্যক্রমের আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।
এরপরও সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আবার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ক্যাম্পেইনে মূল লক্ষ্য থাকবে আগের কর্মসূচিতে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনা।
এর মধ্যে আগের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে টিকা না পাওয়া শিশু, কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া বা দুর্গম এলাকায় থাকা শিশু এবং যেসব শিশুর নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ থাকবে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকাদানের আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাতেও টিকাদান কার্যক্রম চালানো হবে। তিনি বলেন, অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশে এসেছে এবং অবশিষ্ট টিকা ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পৌঁছাবে।
হামে মৃত্যু নিয়ে সমালোচনার মধ্যে মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে কোনো টিকা মজুত ছিল না। তার ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। হামে মৃত্যুর জন্য বর্তমান সরকারের কোনো দায় নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারি হিসাবে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই পরিস্থিতির মধ্যেই দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির ঘোষণা এল।
ডেঙ্গু নিয়েও প্রস্তুতির কথা জানালেন মন্ত্রী
সেমিনার শেষে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে গুরুতর রোগীদের প্রয়োজন ছাড়া ঢাকার তৃতীয় স্তরের হাসপাতালগুলোতে পাঠাতে না হয়।
তিনি জানান, টারশিয়ারি হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার বাইরে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। তার মতে, ঢাকার বাইরে চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক রোগী ঢাকায় চলে আসেন।
অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরাই রোগীদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেন, এমন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যেও এক ধরনের ভীতি কাজ করে। সে কারণেই তারা রোগীদের ঢাকার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।











