মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতের টানে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় প্রায় ৫ ঘন্টা পর জমজ দুই ভাই সহ তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ারসার্ভিসের ডুবুরি দল। গতকাল রোববার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ভাটি বন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী বন্ধু মেঘনা নদীর পাড়ে বাঁশবনে ঘুরতে আসে। একপর্যায়ে তারা চার বন্ধু মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামলে প্রবল স্রোতের টানে তারা পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এসময় তারা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকলে নদীর পাশে থাকা এক নারী প্রথমে এগিয়ে গিয়ে একজনের হাত ধরে টেনে তুলতে সক্ষম হন। তবে বাকি তিনজন স্রোতের টানে পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তলিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের খুজতে থাকো। পরে নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর জমজ দুই ভাই আসেকীন (১৫) ও আরেফিনের (২৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে আবিরের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে জমজ দুই ভাই আসেকীন ও আরেফিন বাড়ীমজলিশ এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে। তারা মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অষ্টম শ্রেণির অপর শিক্ষার্থী আবির বাড়ীমজলিশ এলাকার ভাড়াটিয়া আবদুল আলীর ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া।

 

স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদী ঘেষা ভাটি বন্দর এলাকার ওই স্থানে প্রায় প্রতিবছরই পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা রোধে এলাকাটিকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে সেখানে গোসল ও নদীতে নামার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানায় তারা। এদিকে সন্তান হারিয়ে তাদের পরিবার গুলোতে চলছে শোকের মাতম। এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ারসার্ভিসের উপ-উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন সাংবাদিকদের জনান, স্কুল শিক্ষার্থী নিখোঁজের দীর্ঘ প্রায় ৫ ঘন্টা পর মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছো।