উত্তাল সাগরে ট্রলারডুবি, উদ্ধার ৯ মাঝি-মাল্লা

জেলা প্রতিনিধি:

বঙ্গোপসাগরে ঢেউয়ের কবলে পড়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। তবে অন্য একটি ট্রলারের মাধ্যমে ডুবে যাওয়া ট্রলারের ৯ মাঝি-মাল্লাই উদ্ধার হয়েছেন।

 

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় থেমে থেমে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে এবং গভীর সাগর উত্তাল রয়েছে। এর মাঝে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।

 

এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের যুগিরহাওলা গ্রামের জহির প্যাদার মালিকানাধীন একটি ট্রলার ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ওই ট্রলারেও ৯ জন মাঝি-মাল্লা ছিলেন। পরে পাশের একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে তা ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

এ কারণে পায়রাসহ চার সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলো মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুরসহ বিভিন্ন চ্যানেলে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।

 

এদিকে জেলার সোনারচর সংলগ্ন সাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গত শনিবার থেকে আটকা পড়ে আছেন ১৮ জেলে। ট্রলারটি সোনারচর-সংলগ্ন মোহনার ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থান করছে।

 

উত্তাল সাগরের কারণে আশপাশের ট্রলারগুলো তাদের উদ্ধারে যেতে পারছে না বলে জানিয়েছেন জেলেদের স্বজনরা। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশকে জানানো হয়েছে।

 

রাঙ্গাবালী কোস্ট গার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সেখানে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

অন্যদিকে রাঙ্গাবালী নৌপুলিশ জানায়, সাগরে থাকা অন্য জেলেদের মাধ্যমে আটকা পড়া ১৮ জেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।