নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের ৬৫ কিলোমিটার পথ একসময় বাসে যেতে সোয়া ঘণ্টা লাগত, এখন লাগে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা। যানবাহনের চাপ বাড়ায় প্রতিনিয়ত যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি খসরুল আলম বলেন, ‘‘২০ বছর আগের তুলনায় উন্নয়ন হলেও মহাসড়কের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।’’
অপ্রশস্থতার কারণে মহাসড়কটিতে নিয়মিত যানজট লেগেই থাকে। যদিও এটি চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তবে প্রায় এক বছর ধরে তা মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, সড়কের দুটি স্থান মিলে পাঁচ দশমিক আট কিলোমিটার চার লেনে উন্নীত করতে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দরপত্র আহ্বান করা হয়। সিলেট তত্ত্বাবধায়ক অফিস দরপত্র গ্রহণ করে তা সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠায়, কিন্তু এখনও সরকারি ক্রয় কমিটিতে সেটি পৌঁছায়নি।
সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সুনামগঞ্জ থেকে প্রায় ১,২০০ যানবাহন চলাচল করে, যার মধ্যে দূরপাল্লার বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক রয়েছে। এছাড়াও পাঁচ হাজারের বেশি সিএনজি ও অন্যান্য ছোট যানবাহন চলাচল করে। অথচ চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মাত্র পাঁচ দশমিক আট কিলোমিটারের জন্য।
একজন প্রকৌশলী জানান, আলফাত স্কয়ার থেকে পৌর কলেজ পর্যন্ত এবং উজানীগাঁও থেকে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট পর্যন্ত চার লেন করার দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা। দরপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও সরকারি ক্রয় কমিটিতে এখনো যায়নি।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের তথ্যমতে, প্রতিদিন পাঁচশ পরিবহন সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে চলাচল করে। এছাড়া দেড়শ আন্তঃজেলা বাস, পাঁচশ প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস, এবং একশর মতো ট্রাকও এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে।
জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার তিনশ বৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং আরও কয়েক হাজার অবৈধ অটোরিকশা চলাচল করে। এছাড়াও প্রায় দুইশ লেগুনা চলাচল করে, যা ২৪ ফুট প্রশস্ত এই সড়কের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।
আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সদস্য ও জেলা বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া বলেন, ‘‘সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ-পাগলা-আউশকান্দি সড়ককেও চার লেনে উন্নীত করতে হবে।’’
সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, ‘‘সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের দুটি স্থান চার লেনে উন্নীত করার দরপত্র ২০২৪ সালের জুলাই মাসেই আহ্বান করা হয়েছিল। দরপত্র গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনও সরকারি ক্রয় কমিটিতে যায়নি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘কবে নাগাদ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই।’’
সড়কের বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যক্রম শুরু না হলে যানজট ও ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।











