দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হওয়ায় গ্যাসের ভবিষ্যত অনিশ্চিত

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশে গ্যাসের মজুত দ্রুত কমে আসলেও নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের কোনো সাফল্য মেলেনি। বর্তমানে দেশে যে গ্যাস মজুত রয়েছে, তা দিয়ে বড়জোর আগামী ১২ বছর চলতে পারবে। স্থলভাগে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হওয়ার পাশাপাশি পুরনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুতও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে, যা গ্যাসের ভবিষ্যত নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সাগরে জ্বালানি অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হলেও কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাতে সাড়া দেয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

পেট্রোবাংলার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে গ্যাসের মজুত কমে আসার কারণে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে শিল্প উৎপাদন খরচ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্তমানে দেশে ৮০% প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ২০% এলএনজির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে গ্যাসের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেলে এলএনজির পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে, যা দেশের সামর্থ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

বর্তমানে ২০টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে উত্তোলন সম্ভব হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্র বন্ধ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ২০ দশমিক ৮০ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট মজুত আছে ৯ দশমিক ১২ টিসিএফ। সাধারণত বছরে ১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন হয়ে থাকে, এর ফলে অবশিষ্ট মজুত দিয়ে ১০ থেকে ১২ বছর গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।

বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুতও কমে যাচ্ছে। যেমন, হবিগঞ্জের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের প্রাথমিক মজুত ছিল ৮,৩৮৩ বিসিএফ, যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য ছিল ৫,৭৫৫ বিসিএফ। এখন পর্যন্ত ৫,৮২৭ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। সিলেটের জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের প্রাথমিক মজুত ছিল ২,৭১৬ বিসিএফ, যার উত্তোলনযোগ্য ছিল ১,৪২৯ বিসিএফ, কিন্তু বর্তমানে উত্তোলন করা হয়েছে ১,৬৩২ বিসিএফ।

এদিকে, বিগত ১৫ বছরে দেশের স্থলভাগে বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের কোনো সাফল্য পাওয়া যায়নি। ভোলা ছাড়া অন্য কোথাও বড় মজুত আবিষ্কৃত হয়নি, আর ভোলার গ্যাস পাইপলাইন সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাস মজুত বাড়ানোর জন্য পুরনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে অনুসন্ধান কূপ, উন্নয়ন কূপ ও কূপ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে তা অনেকটা অপ্রতুল।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, ২০২৪ সালের মার্চে পেট্রোবাংলা সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকলেও কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান এতে সাড়া দেয়নি। এর ফলে দেশের সাগরীয় গ্যাস সম্ভাবনা অজানাই রয়ে গেছে।

বর্তমানে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড (এসজিএফএল)-এর পাঁচ গ্যাসক্ষেত্রে মজুত আছে ৫ টিসিএফের বেশি, তবে সেখানে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আর বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)-এর পাঁচ গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৩ টিসিএফ গ্যাস মজুত রয়েছে, কিন্তু তারা উৎপাদন করছে মাত্র ৫৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

এ পরিস্থিতিতে, নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে বাংলাদেশকে এলএনজি আমদানির ওপর আরো বেশি নির্ভর করতে হবে, যা দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জন্য আরও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।