অনলাইন ডেস্ক:
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বিশ্বব্যাপী মন্দার প্রভাব থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেনিম বাজারে নিজেদের শীর্ষ সরবরাহকারীর অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে গত আগস্ট মাসে ইউরোপে বাংলাদেশের ডেনিম রফতানিতে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা ইউরোপের সার্বিক বাজার প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) এই চিত্র তুলে ধরেছে।
উপাত্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ইইউর দেশগুলোতে বাংলাদেশ মোট ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম পণ্য রফতানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম। সার্বিকভাবে এই সময়ে ইইউ বিশ্ববাজার থেকে মোট ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। ইইউর মোট আমদানির ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এককভাবে সরবরাহ করে শীর্ষ অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখেছে বাংলাদেশ।
বছরের শুরুর দিকে মন্দাভাব থাকলেও একক মাস হিসেবে আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের ডেনিম খাত। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ১৩ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম রফতানি হয়েছে। এ সময় ইউরোপের বাজারে সামগ্রিক ডেনিম আমদানি বাড়ে ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ, অথচ বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। ফলে আগস্টে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের বাজার অংশীদারিত্ব বেড়ে ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশে উন্নীত হয়।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল জানান, আগস্টে ইউরোপের ডেনিম আমদানিতে যে বাড়তি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, তার প্রায় ৩৫ শতাংশই এসেছে বাংলাদেশ থেকে। ফলে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের রফতানি আয়ে যে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ পতন ছিল, আগস্ট শেষে তা কমে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
সংকলিত তথ্যে দেখা যায়, প্রতিযোগীদের মধ্যে গত আট মাসে ইইউতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে তুরস্ক। দেশটির ডেনিম রফতানি ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ বা প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো কমে গেছে। এছাড়া মরক্কোর ১৪ দশমিক ৪৮, পাকিস্তানের ৭ দশমিক ৮৮, কম্বোডিয়ার ৬ দশমিক ৪৭ এবং তিউনিসিয়ার ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ রফতানি হ্রাস পেয়েছে। তবে রফতানি কমলেও ইইউর বাজারে রফতানি মূল্যের বিচারে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তান (৫২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ইউরো) ও তুরস্ক (৪৩ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো)।
অন্যদিকে, ইউরোপের বাজারে দ্রুত আধিপত্য বাড়াচ্ছে মিসর, চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো। আলোচ্য আট মাসে মিসরের ডেনিম রফতানি বেড়েছে ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, চীনের ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্কের রফতানি হ্রাসের ফলে ইউরোপের বাজারে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছিল, চীন ও মিসর তা দ্রুত পূরণ করলেও বাংলাদেশ ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে শীর্ষ অবস্থান মজবুত রাখতে শুধু কম দামে পণ্য দেওয়াই যথেষ্ট নয়। ক্রেতাদের নতুন নতুন ক্রয়াদেশ ধরে রাখতে দ্রুততম সময়ে পণ্য পৌঁছানো (লিড টাইম), নমনীয় উৎপাদন ব্যবস্থা এবং অল্প সময়ে ডিজাইনে বৈচিত্র্য আনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশকে আরও জোর দিতে হবে।











