আগামী দুই বছরে স্বাস্থ্য খাতে এমন পরিবর্তন আনা হবে, যাতে এক রোগীকেও ভারতে যেতে না হয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। এ দেশের অর্থ লুটেপুটে ফ্যাসিস্টরা বিদেশে পাচার করেছে। তারা স্বাস্থ্য খাতকে একেবারে ভেস্তে দিয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা চত্বরে কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় জনগণের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং শক্তি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতকে আমূল পরিবর্তন করা হবে। যেন একটা রোগীকেও ভারতের মাটিতে পা না দিতে হয়। আমাদের রোগীরা আমাদের ঘরে ফিরে আসুন।

মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাত মানে একটা দুর্নীতির খাত হিসেবে উত্থান হয়েছিল। স্বাস্থ্য খাতের টাকা ওড়ে, যে আগে ধরতে পারে- এমন অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল এই খাতকে। তারা কোটি কোটি টাকা যন্ত্রপাতি কিনেছিল যেগুলো অকেজো। এগুলো ভাঙ্গারিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। যেগুলো পরিচালনার জন্য জনবল নেই। সব মিলিয়ে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে।

মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন টেন্ডারে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ লুটপাট হয়েছে। জেলা পর্যায়ে টেন্ডারে লুটপাট হয়েছে। আমরা যখন দায়িত্ব নিলাম, চতুর্দিকে দুর্নীতির একটা ভান্ডার পেলাম। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। স্বাস্থ্য খাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জন্য প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে ১৯ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল তৈরি করেছিলেন। এসব চিন্তা কিন্তু সেই সময় কেউ আর করেনি। পরে বেগম খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় আসলেন, উনিশ থেকে পঞ্চাশ শয্যায় রূপান্তর করলেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক দিলেন। বর্তমানে সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যায় রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন।

সরদার মো. সাখাওয়াত বলেন, হাসপাতালে আমরা আধুনিক প্যাথলজি স্থাপন করতে যাচ্ছি। হাসপাতালে আগামী দুই বছরের মধ্যে কিডনি ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে। এ হাসপাতাল থেকে কিডনি রোগীদের ঢাকা কিংবা বড় শহরে যেতে হবে না। এসব হাসপাতালে ২০টি সিট থাকবে, আমাদের মায়েদের জন্য ২০টি সিট থাকবে। আমাদের বাচ্চাদের জন্য ২০টি সিট থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উপজেলা বিল্ডিং, ইউনিয়ন বিল্ডিং এবং ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টারসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার হতে যাচ্ছে। এসব ভবনের কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে শেষ হবে। মন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা এই বছরই ৪১ হাজার ৩৯১ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছি। যার মধ্যে নার্স, আয়া ও মিডওয়াইফ থাকবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি এনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। ঢাকা মেডিক্যালে রোবোটিক সার্জারির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের দলাল, বাটপারেরা মানুষের পকেটে টাকা কেটে নিয়ে যায়। সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করার লক্ষ্যে সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটার মধ্যে নতুন কোনও ক্লিনিক করতে দেওয়া হবে না। যেগুলো আছে, এগুলো শর্ত মোতাবেক কাজ করতে হবে। এদের বিষয়ে ডিসি এবং সিভিল সার্জনকে বলা হয়েছে। যদি কোনও অনিয়ম দুর্নীতি পাওয়া যায়, সেগুলো সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ডাক্তারদের নিয়োগ দিয়ে ইউনিয়ন উপজেলা পর্যায়ে সয়লাব করে দেওয়া হবে।

চায়না, টার্কি, পাকিস্তান থেকে চিকিৎসক এনে আমাদের চিকিৎসকদের হাতকে শক্তিশালী ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের জন্য যেটুকু খাবার এসেছে, আড়াইশত শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে একই খাবার এসেছে- ফ্যাসিস্টরা এগুলো দেখে নাই। সারা দিন চিন্তা করেছে টাকা লুট করার। ওদের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা মানুষ লুট করেছে, জুলাই বিপ্লবের পরে আগুনে পুড়েছে টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যে কসবা আখাউড়ায় চিকিৎসক সংকট নিরসন করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকবেন তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। এ বিষয়ে সিভিল সারজনকে তালিকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তনে আসবো।

এর আগে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন (কসবা-আখাউড়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান।