সাফল্যের আসল মন্ত্র জানালেন কৌশানি মুখোপাধ্যায়

অনলাইন ডেস্ক:

টালিউড অভিনেত্রী কৌশানি মুখোপাধ্যায়ের ক্যারিয়ার গ্রাফ নিমেষেই বদলে দিয়েছে ‘বহুরূপী’ সিনেমাটি। দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখে অভ্যস্ত দর্শকদের কাছে ঝিমলি চরিত্রে কৌশানির উপস্থিতি ছিল দারুণ এক চমক।

এর আগে ‘কেলোর কীর্তি’, ‘গার্লফ্রেন্ড’, ‘তোমাকে চাই’, ‘পারবো না আমি ছাড়তে তোকে’ সিনেমায় অভিনয় করেও টালিউডে নিজেকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় সফল হতে পারেননি এই অভিনেত্রী। তবে মোড় ঘুরে যায় ২০২৪ সালে ‘বহুরূপী’ সিনেমায় ঝিমলি চরিত্রে অভিনয় করার পর, যা তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এরপর ‘রক্তবীজ ২’ সিনেমাতেও অভিনয় করেন কৌশানি।

চলতি বছর দুর্গাপূজায় ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ সিনেমায় তার অনবদ্য অভিনয় মুগ্ধ করেছে সবাইকে এবং ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব ছাপ। এত দেরিতে ক্যারিয়ারে জনপ্রিয়তা অর্জন এবং তা ধরে রাখার আসল রহস্যই এবার ফাঁস করলেন কৌশানি মুখোপাধ্যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী প্রকাশ করেছেন যে, তিনি তার জীবনে একটিমাত্র মন্ত্র খুব শক্তভাবে মেনে চলেন—তা হলো ধৈর্য। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলেও নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেতে তাকে বেশ কিছুটা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

তবে কোনো অবস্থাতেই তিনি হাল ছাড়েননি বলে জানান কৌশানি। তার ভাষ্যমতে, বহু বছর অপেক্ষার পর অবশেষে তিনি নিজের পছন্দের বা স্বপ্নের কোনো পরিচালকের নির্দেশনায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন এবং নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরেছেন।

জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে কৌশানি বলেন, ‘আমার মতে জনপ্রিয়তা ধরে রাখার একমাত্র ওষুধ হলো ধৈর্য। তোমাকে ধৈর্য ধরতেই হবে। আমি নিজে দেখেছি এতগুলো বছর অপেক্ষা করার পর অবশেষে আমার প্রিয় চরিত্র বা স্বপ্নের চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি।’

নিজের সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে অনেক অপেক্ষা করতে হয়েছে আজকের জন্য আর সেই অপেক্ষা তাই আমার স্ট্রাগল। হয়তো আমাকে প্রত্যেক পরিচালকের কাছে গিয়ে গিয়ে অডিশন দিতে হয়নি, কিন্তু এই অপেক্ষাটাই হলো আমার জীবনের একমাত্র স্ট্রাগল।’

ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেতা বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন অভিনেত্রী কৌশানি। হবু স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বিয়ের প্রসঙ্গে এলেই বরাবর তা এড়িয়ে যান তিনি। অভিনেত্রী পরিষ্কার জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজের ক্যারিয়ার ও কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে ইচ্ছুক। বাবা বিয়ের জন্য বারবার তাগাদা দিলেও তিনি এখনই এ বিষয়ে কোনো ভাবনাচিন্তা করতে নারাজ।