পাকিস্তানে তীব্র এলপিজি সংকট: আকাশছোঁয়া দামে দিশেহারা ক্রেতারা

অনলাইন ডেস্ক:

তাফতান সীমান্ত দিয়ে গ্যাস সরবরাহ আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে পাকিস্তান, যার জেরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও প্রতি কেজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৭০০ রুপিতে।

চলমান এই সংকটের মধ্যেই সরকার নির্ধারিত এলপিজির দাম প্রতি কেজিতে ১৪ রুপি বাড়িয়ে নতুন করে ২৯৪ রুপি নির্ধারণ করেছে, তবে সাধারণ ভোক্তাদের প্রধান অভিযোগ হলো সরকারের বেঁধে দেওয়া এই নির্ধারিত দামে বাজারে কোনো গ্যাসই পাওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতির চিত্র অনুযায়ী বেলুচিস্তানের কোয়েটাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতি কেজি এলপিজি চড়া দামে ৫৩০ থেকে ৭০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে, আর করাচি ও লাহোরে এই জ্বালানির দাম ৫২০ থেকে ৫৮০ রুপির মধ্যে রয়েছে এবং পেশোয়ারে প্রতি কেজি গ্যাসের দাম পৌঁছে গেছে ৬০০ থেকে ৬৫০ রুপিতে।

লাহোরের সাধারণ ভোক্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রতি কেজি এলপিজির দাম কাগজে-কলমে ২৯৪ রুপি নির্ধারণ করলেও স্থানীয় দোকানগুলোতে তা জোরপূর্বক ৫৫০ থেকে ৬০০ রুপিতে বিক্রি করা হচ্ছে, ফলে এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে তারা অবিলম্বে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এদিকে লাহোরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক দাবি করেছেন যে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের তেল ও গ্যাসের বাজারে।

তিনি আরও দাবি করেন যে বিগত ছয় মাসের ব্যবধানে সরকার অত্যন্ত সফলভাবে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে এবং বর্তমানে দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন যে কাতার থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং আসন্ন ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসেও দেশের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাবে, পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে পেট্রোল সরবরাহ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, এলপিজির মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত নতুন একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান এলপিজি মার্কেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আলী হায়দার।

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন যে এই প্রস্তাবিত নীতি যদি শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়, তবে এলপিজির দাম এক লাফে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কোনো অংশীজনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই এই নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

আলী হায়দারের মতে, এলপিজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে দিনশেষে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তা—উভয় পক্ষই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, আর তাই এই সংকট কাটাতে এলপিজি খাতের ওপর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে সম্পূর্ণ বাজারব্যবস্থা উন্মুক্ত করে দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।