নিজস্ব প্রতিবেদক:
অর্থের অভাবে যেন দেশের তরুণ প্রজন্মের কোনো উদ্ভাবনী আইডিয়া হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখা জরুরি আপনার একটি ইনোভেটিভ আইডিয়াই হয়তো বাংলাদেশের জন্য হতে পারে গেম চেঞ্জিং। এ মনোভাব থেকে চলতি বাজেটে ‘স্টার্ট আপের’ জন্য বছরে ৫০০ কোটি বরাদ্দ করেছে সরকার।’
‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’ এমন প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই এক্সপোটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান চলাকালীন বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
গুরুত্বপূর্ণ এই সোলার এক্সপো অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, অতীতে দেশটাকে সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। এর ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমদানি প্রক্রিয়ায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের প্রায় সমপরিমাণ চাহিদা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য সরকার ডিজেলের মজুদ বাড়িয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতোমধ্যেই ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কন্ঠে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতা কিংবা ভূমিকা নিয়ে অহেতুক আলোচনা-সমালোচনা করে সময়ক্ষেপণ না করে, আগামী দিনগুলোতে কীভাবে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় এবং বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, বর্তমান সরকারের কাছে সেটিই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
সরকারপ্রধান তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সরকার বর্তমানে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সচিবসহ পদস্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।











