নিজস্ব প্রতিবেদক:
চব্বিশের জুলাই-আন্দোলন চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমির হোসেন আমুসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফরমাল চার্জ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২২ নভেম্বর আমুসহ ছয় জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে পলাতক থাকা মির্জা আজমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।
এর আগে গত ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে এই ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল।
যাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে, তারা হলেন– সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পর্যটন মন্ত্রী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
এর আগে গত ২৬ অক্টোবর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, আমির হোসেন আমুসহ মোট সাত জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে দাখিল করা হয়েছে এবং সেটি থেকেই তারা ফরমাল চার্জ প্রস্তুত করেছেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে মূলত সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং জুলাই গণহত্যার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন—এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য যে, অভিযুক্তদের মধ্যে ডা. দীপু মনি ও ড. আব্দুর রাজ্জাক ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলারও আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।











