ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

অনাহারে রেখে ১৯১ জনকে হত্যা: কেনিয়ার প্রলয়বাদী ধর্মগুরু পল ম্যাকেনজির ২০০ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: 7 November 2026, 9:11 pm
ফন্ট:

অনলাইন ডেস্ক:

কেনিয়ার একটি আদালত প্রলয়বাদী ধর্মগুরু পল ম্যাকেনজিকে ১৯১ জন মানুষকে হত্যার দায়ে ২০০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন, যার মধ্যে নিহতদের প্রায় সবাই ছিল নিষ্পাপ শিশু। ঈশ্বরের সান্নিধ্য পাওয়ার লোভে অনুসারীদের সন্তানদের অনাহারে রেখে মেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার দায়ে তাকে এবং তার ২৮ জন সহযোগীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

বিচারক ডায়ানা মোচাচে রায় ঘোষণার সময় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ম্যাকেনজি তার অনুসারীদের না খাইয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার মূল হোতা এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়ার জন্যই এই সর্বোচ্চ শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে কেনিয়ার উপকূলীয় এলাকা শাকাহোলা বন থেকে ৪০০টিরও বেশি গণকবর এবং মৃতদেহ উদ্ধারের পর এই আত্মঘোষিত যাজককে আইনশৃঙ্খলার আওতায় এনে গ্রেফতার করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হত্যা সংক্রান্ত অপরাধের জন্য ১০০ বছর এবং অনাহারজনিত অপরাধের জন্য আরও ১০০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দুটি আলাদা অপরাধের শাস্তি পর পর কার্যকর হওয়ায় তার মোট সশ্রম কারাদণ্ডের মেয়াদ দাঁড়িয়েছে ঠিক ২০০ বছর। একইসঙ্গে এই ভয়াবহ অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তার ২৮ জন সহযোগীকে সর্বোচ্চ ১৬০ বছর পর্যন্ত মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনুসারীদের না খেয়ে থাকার নির্দেশ অমান্য করলে প্রহারকারী প্রহরী এবং গণকবর খুঁড়তে সাহায্য করা ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কঠোরতম শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের জোরালো আবেদন জানানো হলেও বিচারক মোচাচে সেই আবেদন খারিজ করে দেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে জানান যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে আসামির সংশোধন বা অনুশোচনার সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়, যদিও কেনিয়ায় ১৯৮৭ সালের পর থেকে কার্যকরভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

শাকাহোলা বনের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা এই গোপন ধর্মীয় গোষ্ঠী বা কাল্ট নিজেদের মতো করে একটি আলাদা আইন ও ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, যেখানে না খেয়ে মারা যাওয়াকে ‘যিশুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া’ হিসেবে অত্যন্ত বিকৃতভাবে উদযাপন করা হতো। এমনকি কেউ অনাহার রাখতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার বহু নজিরও সেখানে পাওয়া গেছে। এই পৈশাচিক ঘটনায় কেনিয়ার ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ওপর কঠোর নজরদারির অভাব এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম গাফিলতি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য করুন