ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চার ঘণ্টার রেল ও সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন ছয়টি গ্রাম পুনরায় ওই ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে টানা চার ঘণ্টা পর রেল ও সড়কপথের অবরোধ তুলে নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে রবিবার বেলা ১১টার দিকে এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি পূরণ না হলে আবারও কঠোর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে এদিন সকাল ৭টা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা এলাকায় ঢাকা-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়ক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথ অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। এই অবরোধের ফলে ব্যস্ততম ওই সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পাশাপাশি রেলপথ অবরোধের কারণে বিভিন্ন স্টেশনে অন্তত সাতটি আন্তনগর ট্রেন আটকে যায়, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাতায়াতকারী কয়েক হাজার সাধারণ যাত্রী।
পরিস্থিতির বিষয়ে বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া নয়ন গণমাধ্যমকে জানান, সম্প্রতি বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে কয়েকটি গ্রাম বিচ্ছিন্ন করে ‘বরিশল’ নামে একটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাসুদেব, কোড্ডা, চান্দি ও কোড়াবাড়িসহ সংশ্লিষ্ট কোনো গ্রামের মানুষের সঙ্গেই কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া জেলা বিএনপির নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার সরাসরি প্রভাব খাটিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে এই নতুন ইউনিয়নটি গঠন করা হয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন এই বিএনপি নেতা। এমনকি নতুন গঠিত ওই ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে কবীর আহমেদের বাবা ফজলুর রহমান ভূঁইয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া নয়ন আরও অভিযোগ করেন, নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বরিশল’ নামে একটি নতুন উপজেলা গঠনের গভীর পরিকল্পনা চলছে। এই আত্মঘাতী উদ্যোগের প্রতিবাদেই মূলত তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের এক দফা দাবি হলো, কৃত্রিমভাবে বিচ্ছিন্ন করা গ্রামগুলোকে অবিলম্বে আগের মতো বাসুদেব ইউনিয়নের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করতে হবে। অন্যথায় আগামী ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন শেষ হওয়ার পর তারা আবারও তীব্র আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
আন্দোলনরত অবস্থায় চান্দি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মিয়াও একই ধরনের গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন। তার দাবি, জেলা বিএনপির নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং তার ভাই যিনি প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন, সেই আব্দুর রহমান সানির প্রভাব ব্যবহার করেই এসব বিতর্কিত ও একতরফা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন। তবে সংবাদ সংগ্রহকালে এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এই দীর্ঘ অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে কমপক্ষে সাতটি আন্তনগর ট্রেন আটকে পড়ে। এর ফলে তীব্র গরম ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে পথিমধ্যে আটকা পড়া কয়েক হাজার ট্রেনযাত্রী চরম দুর্ভোগ ও মানবেতর অবস্থার শিকার হন।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্দোলনের তীব্রতা দেখে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। সেখানে গিয়ে তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তার এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতেই বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর থেকে ওই এলাকার সড়ক ও রেলপথে পুনরায় স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হয়।
তবে কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে তারা ফের রাজপথে নামবেন এবং পুনরায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন।
