ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

পরিসংখ্যান দিয়ে উন্নয়নের মিথ্যা বয়ান তৈরি করেছিল বিগত সরকার: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

প্রকাশিত: 8 November 2026, 2:52 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গত রবিবার (৮ নভেম্বর) জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অডিটরিয়ামে ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগ সরকার পরিসংখ্যানকে উন্নয়নের বয়ান হিসেবে ব্যবহার করেছিল এবং পতিত সরকারের আমলে ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, পরিসংখ্যানকে শুধু পাঠ্যপুস্তকের একটি বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না; কিভাবে মিথ্যা বলা যায়, অতীতে সেই হাতিয়ার হিসেবেও পরিসংখ্যানকে ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তথ্য ও অপতথ্যের লড়াই চলছে এবং এমন পরিস্থিতিতে দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্য করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের পরিসংখ্যান নিয়ে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশে ইঞ্জিনচালিত নৌকার সংখ্যা একসময় ১৩ হাজার দেখানো হয়েছিল, অথচ প্রকৃত সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার। এ ধরনের তথ্যের ব্যবধান থেকেই বোঝা যায় যে অতীতে কিভাবে পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে এবং এই অবস্থার পরিবর্তনে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এখন আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

সরকার তিনটি প্রধান সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় প্রথমত আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে মানসম্পন্ন ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিসংখ্যান তৈরি করা, দ্বিতীয়ত জননীতি প্রণয়ন ও সরকারি সেবা বাস্তবায়নে সঠিক তথ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং তৃতীয়ত সাধারণ মানুষ, গবেষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরিসংখ্যান সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন যে, অতীতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বাদ পড়েছেন এবং যাদের পাওয়ার কথা নয় তারাও সুবিধা পেয়েছেন, যার ফলে রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদের অপচয় হয়েছে। এ ধরনের ভুল কমাতে বর্তমানে প্রক্সিমিটি টেস্টসহ বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগীকে চিহ্নিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং পাশাপাশি ওপেন ডাটা পলিসি প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য উন্মুক্ত করা হবে, যা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন যে, দেশের তথ্য নিয়ে বিদেশে গবেষণার সুযোগ বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মান উন্নত হবে এবং জননীতিতে জবাবদিহি বাড়বে, একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিষয়ে অন্যদের দেওয়া ভুল ও অপতথ্যের ওপর নির্ভরশীলতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। এ সময় বিবিএসের মহাপরিচালক শামিমুল হক, পরিচালক কবির উদ্দিন আহম্মদসহ পরিকল্পনা সচিব এবং আইএমইডি সচিবসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন