যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় নতুন ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত, আক্রান্ত দুগ্ধ শ্রমিক

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় নতুন ধরনের বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন এক দুগ্ধ শ্রমিক। দেশটির ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি আগের সংক্রমণগুলোর তুলনায় ভিন্ন একটি ধরন।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আক্রান্ত ব্যক্তির অসুস্থতা ততটা গুরুতর ছিল না। তার প্রধান লক্ষণ ছিল চোখের লালভাব ও জ্বালাপোড়া, যা সাধারণত গরু আক্রান্ত হলে দেখা যায়। তিনি হাসপাতালে ভর্তি হননি এবং ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

নেভাদার চার্চিল কাউন্টির একটি খামারে এই সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়ে। এর আগে হাঁস-মুরগির সংস্পর্শে আসা এক ডজনেরও বেশি মানুষের শরীরে নতুন এই ধরনটি পাওয়া গেলেও, গরুর মাধ্যমে মানুষের সংক্রমণের ঘটনা এবারই প্রথম।

সিডিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য কারও মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর কোনো প্রমাণ নেই। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির সংস্পর্শে যারা নিয়মিত থাকেন, তাদের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যা ২০২৩ সালের শেষ দিকে গবাদি পশুর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি রাজ্যে ৯৬২টি গবাদি পশুর শরীরে B3.13 নামে একটি ধরন শনাক্ত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিল। এরপর ৩১ জানুয়ারি নেভাদায় গবাদি পশুর শরীরে D1.1 নামে নতুন একটি ধরন শনাক্ত হয়। ডিসেম্বরে শুরু হওয়া পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুধের নমুনা পরীক্ষা করে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৬৮ জন বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই গরু, হাঁস-মুরগি বা অন্যান্য সংক্রামিত প্রাণীর সংস্পর্শে কাজ করতেন। কানাডায়ও এই ভাইরাসের প্রভাব দেখা গেছে। সম্প্রতি লুইজিয়ানায় এক ব্যক্তি বন্য পাখির সংস্পর্শে এসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে জানুয়ারিতে মারা যান। এছাড়া ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় হাঁস-মুরগির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে এক কিশোরী দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি কম হলেও, সংক্রামিত গরু, পাখি বা অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এটি গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের জন্য প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহারসহ সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।