অনলাইন ডেস্ক:
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হাইতিতে অপরাধী গ্যাংগুলো শিশুদেরকে সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের শিকার করতে এবং তাদের বিভিন্ন অপরাধে নিয়োগ করতে অব্যাহতভাবে কাজ করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যাংগুলো শিশুদের নিয়োগ করছে এবং তাদেরকে গুপ্তচরবৃত্তি, যানবাহন সরবরাহ, এবং গোষ্ঠী আক্রমণ বা এলাকা নিয়ন্ত্রণের মতো কাজ করাচ্ছে।
অ্যামনেস্টি অনুমান করছে, হাইতিতে প্রায় ১০ লক্ষাধিক শিশু সশস্ত্র গ্যাং নিয়ন্ত্রিত বা তাদের প্রভাবাধীন এলাকাগুলোতে বসবাস করছে। শিশুদের বিরুদ্ধে এসব অপরাধ মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনটিতে ১৪ জন হাইতিয়ান শিশুর সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়েছে, যাদের মধ্যে মেয়েরা অপহরণ, ধর্ষণ এবং অন্যান্য যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অ্যামনেস্টি জানাচ্ছে, এসব অপরাধের মধ্যে গণধর্ষণের ঘটনা এখন এতটাই নিত্যনৈমিত্তিক যে, এক পরিবারের একাধিক সদস্যও শিকার হচ্ছে। এমনকি একাধিক আক্রমণের শিকার হচ্ছে একই ব্যক্তি।
হাইতিতে গর্ভপাত অবৈধ হওয়ায়, ধর্ষণের শিকার মেয়েরা নিরাপদ পদ্ধতিতে গর্ভপাত করতে পারছে না, ফলে অনেকেই অনিরাপদ পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর হাইতিতে গণধর্ষণের কারণে ৫,৬০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় এক হাজার বেশি।
এছাড়া, স্কুল ও হাসপাতালেও গ্যাং আক্রমণ করছে এবং মানবিক সহায়তা প্রদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা শিশুদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। হাইতিতে কোনো প্রেসিডেন্ট বা পার্লামেন্ট নেই, এবং দেশটি এখন একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের শাসনে পরিচালিত হচ্ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, হাইতিতে গত এক বছরে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা পূর্বের তুলনায় তিনগুণ বেশি। দেশটি বর্তমানে অপরাধী চক্র, দারিদ্র্য এবং অন্যান্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, এবং তার পরিণতি হিসেবে এই সহিংস পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।











