অনলাইন ডেস্ক:
গাজার যুদ্ধবিরতি এবং হামাস-ইসরায়েল বন্দী বিনিময়ের প্রথম পর্যায়ের ষষ্ঠ ধাপে শনিবার তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। এর বিনিময়ে, ইসরায়েলও ৩৬৯ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। মুক্তি পাওয়া তিনজন হলেন সাশা ত্রৌফানভ, সাগুই দেকেল শেন এবং আয়ার হর্ন।
আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) জানিয়েছে, শনিবার সকালে মুক্তি পাওয়া তিন জিম্মিকে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিস থেকে সাদা রঙের গাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে একটি অস্থায়ী মঞ্চ প্রস্তুত ছিল, যেখানে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা রেডক্রসের প্রতিনিধির কাছে বন্দি হস্তান্তরের নথিতে স্বাক্ষর করেন হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। এরপর তাদের গাজার রাফা ক্রসিং এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
হামাস জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়া তিন ইসরায়েলি নাগরিক প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন, তারপর সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে এবং শেষমেশ তাদের পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।
প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মুক্তি পাওয়া ৩৬৯ জন ফিলিস্তিনি বন্দির মধ্যে ৩৩৩ জন গাজার বাসিন্দা। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর। বাকি ৩৬ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত।
হামাসের সামরিক শাখা আল কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র হাজেম কাসেম তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছেন, মুক্তি প্রক্রিয়া “যথাযথ পদ্ধতিতে” সম্পন্ন হবে, যা ফিলিস্তিনের “সংস্কৃতি এবং ইসলামের শিক্ষার” প্রতিফলন ঘটাবে।
গত ১৯ জানুয়ারি থেকে গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয় এবং প্রথম ধাপে হামাস ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয়। এর বিনিময়ে, ইসরায়েল তাদের কারাগারে আটক কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়। দ্বিতীয় ধাপে পুরুষ ইসরায়েলি সেনারা মুক্তি পাবে এবং তৃতীয় ধাপে গাজার পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে, যা কয়েক বছর সময় নিতে পারে।
এটি ৭ অক্টোবরের হামলার পর দীর্ঘ ১৫ মাসের অবিরাম যুদ্ধের পরবর্তী চুক্তি, যার ফলে গাজায় ৪৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।











