অনলাইন ডেস্ক:
সিঙ্গাপুরের বিরোধীদলীয় নেতা প্রীতম সিংকে সোমবার পার্লামেন্টে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি সিঙ্গাপুরের সংসদীয় কমিটির সামনে দুটি মিথ্যা বলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে তিনি সামনের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারাননি। জরিমানার পরিমাণ ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারের নিচে হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ অব্যাহত থাকবে।
অভিযোগ ওঠে যে, তিনি তার দলের সংসদ সদস্য রাইসা খানকে মিথ্যা তথ্য স্বীকার করতে যথেষ্ট চাপ দেননি। রাইসা খান পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন যে, তিনি ধর্ষণের শিকার এক নারীর বিষয়টি মিথ্যা দাবি করেছিলেন। ২০২১ সালে, সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন যে, এক পুলিশ কর্মকর্তা ধর্ষিত নারীর বিষয়ে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন, যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
রাইসা খান এই অভিযোগের পর পদত্যাগ করেন এবং সংসদীয় তদন্তে প্রীতম সিংকেও মিথ্যা বলার অভিযোগ ওঠে। আদালতের বিচারক লুক ট্যান বলেছেন, প্রীতম সিং তার দলের নেতার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। বিচারক আরও জানান, প্রীতম সিং সংসদীয় কমিটির কাছে মিথ্যা বলেছিলেন, এমনকি তিনি জানতেন না রাইসা খান তার বক্তব্য মিথ্যা বলেছেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়, প্রীতম সিংকে প্রতিটি অভিযোগের জন্য সাত হাজার সিঙ্গাপুর ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে তিনি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। প্রীতম সিং জানিয়েছেন, তিনি এই জরিমানাকে নির্বাচনী লড়াইয়ের একটি অংশ হিসেবে দেখছেন এবং বিরোধী রাজনীতি করার জন্য আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
সিঙ্গাপুরের সংবিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি এক বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন অথবা ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বা তার বেশি জরিমানা হয়, তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েন। তবে, প্রীতম সিংয়ের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ১০ হাজার ডলারের সীমা অতিক্রম করেনি, তাই তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো বাধা নেই।
এদিকে, সিঙ্গাপুরের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষিতে বিরোধী দল আরও শক্তিশালী অবস্থান নিতে চায়। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিএপি ৮৩টি আসনে জয়লাভ করে এবং প্রধান বিরোধী দল ওয়াকার্স পার্টি ১০টি আসনে জয়ী হয়, যা তাদের স্বাধীনতার পর সবচেয়ে ভালো ফল। ওয়ার্কার্স পার্টি আসন্ন নির্বাচনে আসন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।











