বড় দুর্ঘটনার মুখ থেকে ফিরে এলো টরন্টোর ৮০ বিমানযাত্রী

অনলাইন ডেস্ক:

কানাডার টরন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় একটি বিমান উল্টে গেছে। তবে বিমানে থাকা ৮০ জন যাত্রী সবাই প্রাণে বেঁচে গেছেন।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ডেল্টা এয়ারলাইন্সের মিনিয়াপোলিস থেকে আসা একটি ফ্লাইট দুর্ঘটনার শিকার হয়। ৭৬ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে বিমানটি উড্ডয়ন করেছিল। দুপুর সোয়া ২টার দিকে প্রবল তুষারপাত ও ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করছিল। রানওয়েতে ছোঁয়ার পরপরই এটি উল্টে যায়। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে এখনো তদন্ত চলছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিতসুবিশি সিআরজে-৯০০এলআর মডেলের বিমানটি উল্টে পড়ে রয়েছে। তবে বিমানটির কাঠামোর বেশিরভাগ অংশ অক্ষত ছিল। যাত্রীরা বিমান থেকে বেরিয়ে টারম্যাক দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যাচ্ছিলেন, আর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন।

বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় যাত্রীরা তুলনামূলকভাবে কম আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। গ্রেটার টরন্টো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেবোরাহ ফ্লিন্ট এই ঘটনায় প্রাণহানি না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

টরন্টো পিয়ারসন ফায়ার চিফ টড আইটকেন জানিয়েছেন, আহত ১৮ জন যাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর আগে, অর্ঞ্জ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স একজন শিশুকে সিককিডস হাসপাতালে এবং দুইজন প্রাপ্তবয়স্ককে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করে।

দুর্ঘটনার সময় পিয়ারসন বিমানবন্দরে প্রবল তুষারপাত ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল। তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রানওয়ে ২৩ ও ১৫এল-এর সংযোগস্থলের কাছেই বিমানটি উল্টে যায়। নিয়ন্ত্রকরা দুর্ঘটনায় সহায়তা করতে আসা একটি মেডিকেল হেলিকপ্টারের ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত পাঠিয়েছেন।

বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জন কক্স এই ঘটনাকে বিরল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সাধারণত অবতরণের সময় বিমান উল্টে যাওয়ার ঘটনা কম ঘটে। তবে সিআরজে-৯০০ মডেলের বিমান প্রতিকূল আবহাওয়ায় উড়তে সক্ষম হলেও বিমানের ডান পাখার কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।

এই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে কানাডার ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডও সহায়তা করছে। গত এক মাসে উত্তর আমেরিকায় এটি চতুর্থ উল্লেখযোগ্য বিমান দুর্ঘটনা। এর আগে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, ফিলাডেলফিয়ায় একটি বিমান দুর্ঘটনা এবং আলাস্কায় আরও একটি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে।

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড যাত্রীদের প্রাণহানি না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সিইও ইডি বাস্তিয়ানও যাত্রীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে তদন্তে সম্পূর্ণ সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।