অনলাইন ডেস্ক:
দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রায় সব জায়গা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইসরায়েল, তবে পাঁচটি কৌশলগত এলাকা এখনও সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে। এর ফলে, যুদ্ধবিরতির পর বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা সীমান্ত এলাকার গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন।
দীর্ঘ এক বছরের সংঘাতের পর, যেগুলো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে, সে অঞ্চলের গ্রামগুলোতে ফিরে আসছেন স্থানীয়রা। ২৭ নভেম্বর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত শেষ হওয়ার পর, বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপে পরিণত ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখতে ফিরে আসছেন।
ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে তারা সীমান্তে পাঁচটি কৌশলগত পয়েন্টে সেনা মোতায়েন রাখবে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং হিজবুল্লাহর কোন “লঙ্ঘনের” বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এদিকে, লেবানন সরকার জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি ‘দখলদারিত্ব’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে এই বিষয়টি উত্থাপন করবে, যাতে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জুন মাসের যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাদের পর্যায়ক্রমে ৬০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করার কথা ছিল, যা ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তবে, লেবাননের সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে দক্ষিণ সীমান্তের ১১টি গ্রামে মোতায়েন হয়েছে, যেখান থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের বিলম্বের পর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী এবং লেবানন সরকারের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এটি ২০০৬ সালের নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাবের লঙ্ঘন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং আরো ১ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
লেবানন সরকার যুদ্ধের পর হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি জোরদার হয়েছে।











