২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমণ হ্রাসে জাপানের চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক:

জাপান আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০১৩ সালের তুলনায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ৬০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার, দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এই পরিকল্পনা প্যারিস চুক্তির অধীনে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সীমিত করতে নেওয়া দেশের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, নতুন জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ৭৩ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। জাপান সরকার তার জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) অনুযায়ী এই লক্ষ্যটি বাস্তবায়ন করবে, যা প্যারিস চুক্তির উদ্দেশ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়ন সীমাবদ্ধ রাখতে সহায়ক হবে।

২০১৬ সালে জাপান ২০৩০ সালের মধ্যে নির্গমন ২৬ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ২০২০ সালের মার্চে এ বিষয়ে নবায়ন করা এনডিসিতে একই পরিসংখ্যান ছিল। তবে ২০২১ সালের অক্টোবরে জমা দেওয়া পরিকল্পনায় ২০১৩ সালের স্তরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৬ শতাংশ নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, যা আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী।

বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অথচ এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সীমিত করতে প্যারিস চুক্তির অন্তর্ভুক্ত লক্ষ্য। এ প্রেক্ষিতে, জাপান তার সর্বশেষ কৌশলগত জ্বালানি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এতে ২০৪০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি, যেমন সৌর ও বায়ু শক্তি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার ১৪ বছর পর, জাপান তার জ্বালানি চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্বীকার করেছে। ২০২৩ সালে, জাপান তার বিদ্যুৎ চাহিদার ৭০ শতাংশ কয়লা, গ্যাস এবং তেল পুড়িয়ে পূরণ করেছে, যা আগামী ১৫ বছরে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

নতুন পরিকল্পনার অধীনে, সৌর এবং বায়ু শক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ২০৪০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস হবে। এটি ২০২৩ সালের ২৩ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের পূর্ববর্তী ৩৮ শতাংশ লক্ষ্য থেকে অনেক বেশি।