অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে আটকা পড়েছে ১৫৭ তিমি, মৃত ৬৭, ঝুঁকিতে আরও ৯০টি

অনলাইন ডেস্ক:

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া রাজ্যের একটি সৈকতে ১৫৭টি তিমি আটকা পড়েছে। এর মধ্যে ৬৭টি তিমি ইতোমধ্যে মারা গেছে এবং বাকি ৯০টি তিমি মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন এই তিমিগুলোকে উদ্ধার করার জন্য।

মঙ্গলবার তাসমানিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে আর্থার রিভারের কাছে এই ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি রাজ্যের রাজধানী হোবার্ট থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। উদ্ধারকর্মীরা জানান, তিমিগুলো “ফলস কিলার হোয়েল” প্রজাতির, যা বৃহত্তম ডলফিনের অংশ। প্রাপ্তবয়স্ক তিমিগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ মিটার এবং ওজন ১.৫ টন হতে পারে।

তাসমানিয়া পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের কর্মকর্তা ব্রেন্ডন ক্লার্ক জানিয়েছেন, “তিমিগুলো সম্ভবত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ধরে আটকা পড়ে আছে, এর মধ্যে ৯০টি জীবিত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, তিমিগুলোকে সমুদ্রে ফিরিয়ে পাঠানোর জন্য বিশেষজ্ঞরা এবং পশু চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। তবে তিনি এও বলেন, “এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং কর্মকর্তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।”

স্থানীয় বাসিন্দা জোসেলিন ফ্লিন্ট জানান, “বুধবার সকালে আমার ছেলে মাছ ধরার সময় তিমিগুলোকে দেখতে পায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, অসংখ্য তিমি আটকা পড়েছে। তাদের মধ্যে ছোট বাচ্চা তিমি ছিল, তারা আমাদের দিকে তাকাচ্ছিল, যেন সাহায্য চাইছে।”

তাসমানিয়া উপকূলের পশ্চিম অংশে তিমি আটকা পড়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। ২০২০ সালে, তাসমানিয়ার ম্যাককোয়ারি বন্দরের কাছে ৪৭০টি পাইলট তিমি আটকা পড়েছিল, যার মধ্যে ৩৫০টির বেশি তিমি মারা যায়। ২০২২ সালে একই বন্দরে ২০০টি তিমি আটকা পড়েছিল।

তিমি অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী, যারা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। অনেক সময় খাদ্যের সন্ধানে তারা ভুল দিক নির্দেশনা অনুসরণ করে এবং উপকূলে ছোট মাছ শিকারের সময় সমুদ্রের তীরে চলে আসে। এক তিমির ভুল সিদ্ধান্তে পুরো দলই সেই পথ অনুসরণ করতে পারে। পরিবেশগত পরিবর্তন, যেমন সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা বা অন্য প্রাকৃতিক কারণও তিমি আটকা পড়ার কারণ হতে পারে।

এটি গত ৫০ বছরে প্রথমবারের মতো একসাথে এতগুলো ফলস কিলার হোয়েল তিমি আটকা পড়ার ঘটনা। এখন উদ্ধারকর্মীদের প্রচেষ্টা নির্ধারণ করবে যে বাকি তিমিগুলো বাঁচবে কি না।