অনলাইন ডেস্ক:
গ্রীষ্মের প্রখর রোদ আর বর্ষার ঝড়-তুফানের আতঙ্ক শেষে যখন কুয়াশার মিহি চাদরে মোড়ানো শীতের আগমন ঘটে, তখন প্রকৃতি প্রেমী মানুষের মন উৎফুল্ল হয়ে উঠে। শীতের এই ঋতুতে টাটকা সবজি, খেজুরের রস এবং বাহারি পিঠার স্বাদ যে কার না প্রিয়! এই ঋতুর বর্ণনা দিতে গিয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা গ্রীষ্মের পাশাপাশি শীতের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তাদের (কুরাইশ বংশের লোকদের) অভ্যাস ছিল শীত ও গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ।’ (সূরা আল-কুরাইশ, আয়াত নং-০২)।
শীতকাল ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই সময়ে ইবাদতের সুযোগ বেশি থাকে, তাই প্রিয় নবীজি শীতকালকে মুমিনদের বসন্তকাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন (মুসনাদে আহমদ: ১১৬৫৬)। কিন্তু কেন শীতকাল মুমিনদের জন্য বসন্তকাল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে? এর পেছনে রয়েছে বিশেষ কারণ। হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শীতের রাত দীর্ঘ হওয়ার কারণে মুমিন রাত্রিকালীন নফল নামাজ আদায় করতে পারে এবং দিন ছোট হওয়ার কারণে রোজা রাখা সহজ হয়।’ (বায়হাকি: ৩৯৪০)।
প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) শীতকালকে স্বাগত জানিয়ে বলতেন, ‘শীতকাল বরকত বয়ে আনে। রাতগুলো দীর্ঘ হয়, ফলে তা কিয়ামুল লাইলের (রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ) জন্য সহায়ক এবং দিন ছোট হওয়ার কারণে রোজা রাখা সহজ।’ (আল-মাকাসিদুল হাসানা: ২৫০)। গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ দিনের কারণে রোজা রাখার কষ্ট বাড়ে, তবে শীতকালে দিনের সময় কম হওয়ায় এবং সূর্যের তাপ কম থাকায় রোজা রাখাটা সহজ হয়।
ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) বলেন, শীতকাল মুমিনদের বসন্ত। কারণ, এই সময়ে মুমিনরা আল্লাহর আনুগত্যে আনন্দিত হয়ে ইবাদত-বন্দেগির চারণভূমিতে বিচরণ করে। সহজ-ছোট আমলগুলোতে পরিভ্রমণ করে। (লাতায়িফুল মাআরিফ ফিমা লিল মাওয়াসিমি মিনাল ওজায়িফ, পৃষ্ঠা-৩২৬)।
শীতকাল আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন হওয়ার জন্য দারুণ সুযোগ এনে দেয়। এই সময়ে ইবাদত করার সওয়াবও বেশি, কারণ শীতের কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে ইবাদত আরও বেশি মর্যাদাপূর্ণ হয়। তাছাড়া শীতার্ত মানুষের সেবা করার মাধ্যমে জান্নাত লাভের সুবর্ণ সুযোগও মেলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে মুমিন অন্য বিবস্ত্র মুমিনকে কাপড় পরিয়ে দিল, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের সবুজ কাপড় পরিয়ে দেবেন।’ (তিরমিজি: ২৪৪৯)।
আল্লাহ তাআলা আমাদের শীতকালে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করার এবং শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।











