মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন আজম খান

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের পপ সঙ্গীতের কিংবদন্তি ‘পপ সম্রট’ আজম খান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন। তার সংগীতের মাধ্যমে অসামান্য অবদান রাখার জন্য সরকার চলতি বছর তাকে এই সম্মান প্রদান করছে।

আজম খান ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সঙ্গীতের জগতে তার বিশেষ অবদান শুধু সংগীত দিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি গণসংগীতের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রতিবাদ এবং সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি ক্লাস নাইনে পড়াকালীন সময়ে পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার বঞ্চনার কথা উপলব্ধি করেন, যা তাকে বিপ্লবী চিন্তাভাবনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল। সেই সময় তিনি ‘ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী’র সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং গণসংগীতের চর্চা শুরু করেন।

আজম খান তার গানে সাধারণ মানুষের জীবনের অভাব ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরতেন। তার গাওয়া গানগুলো শুধু সংগীতের জন্য নয়, বরং সারা দেশের আন্দোলনের অংশ হয়ে উঠেছিল। তার গানগুলোর মধ্যে ‘এত সুন্দর দুনিয়ায়’, ‘অভিমানী’, ‘অনামিকা’, ‘পাপড়ি’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘হাইকোর্টের মাজারে’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘ও চাঁদ সুন্দর’, ‘বাধা দিয়ো না’ এবং ‘ও রে সালেকা ও রে মালেকা’ অন্যতম। আজও তার এই গানগুলো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

২০১১ সালের ৫ জুন আজম খান আমাদের মধ্যে না থাকলেও তার গান এবং সাংস্কৃতিক অবদান চিরকাল অমলিন থাকবে। তিনি ছিলেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনুপ্রেরণা।

স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান এবং এটি প্রতি বছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা এবং সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।