Sunday, September 27, 2026
33 C
Dhaka
Sunday, September 27, 2026

ছাপাসংক্রান্ত কাজে বিলম্বের কারণে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব বই পাবেনা শিক্ষার্থীরা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে সব পাঠ্যবই পাবে না। শিক্ষাক্রম পরিবর্তন, বই পরিমার্জন, নতুন দরপত্র প্রক্রিয়া এবং ছাপাসংক্রান্ত কাজে বিলম্বের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ছাপার কাজ ভালোভাবে এগোলেও চতুর্থ থেকে নবম-দশম শ্রেণির বইয়ের ছাপার কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক (প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি) শ্রেণির ১০ কোটি বই ছাপানো হবে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বই ছাপার কাজ শুরু হয়ে গেছে। নবম-দশম শ্রেণির বইয়ের ছাপার বিষয়ে ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে, এবং খুব শীঘ্রই ছাপার কার্যাদেশ দেয়া হবে।

এবার প্রায় ৪০ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণের লক্ষ্যে ছাপানো হবে, যার মধ্যে প্রাথমিকের প্রায় ২০ কোটি এবং মাধ্যমিকের ২০ কোটি বই রয়েছে। তবে, গত কয়েক বছর ধরে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেয়ার যে উৎসব ছিল, এবারে তা অনুষ্ঠিত হবে না।

বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান জানিয়েছেন, বইয়ের ছাপার কাজ দেরিতে শুরু হয়েছে এবং কাগজের সংকটও রয়েছে। তবে, প্রাথমিকের বই শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে বিতরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, বইয়ের মান নিয়ে কিছু অভিযোগ উঠেছে। যেমন, দ্বিতীয় শ্রেণির একটি বইয়ে এক পৃষ্ঠায় ছবি এবং অন্য পৃষ্ঠায় একই ছবি পুনরায় দেখা গেছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, মানসম্পন্ন বই নিশ্চিত করতে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিদর্শন প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে এবং কোনোভাবেই মানের ছাড় দেয়া হবে না।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান এ কে এম রিয়াজুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, নিম্নমানের বই বাতিল করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের মানহীন বই বিতরণ করা হবে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ভবনে কাজ শুরু হবে মন্ত্রণালয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সচিবালয়ের কার্যালয়ে আগুন লেগে পুরো কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম একদিনের জন্যেও বন্ধ রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি জানান, আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনের খালি কক্ষে দাপ্তরিক কাজ শুরু করবে মন্ত্রণালয়।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকার হেয়ার রোডে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার বাসভবনে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের চলমান জনবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করা এবং বিগত সরকারের দুর্নীতির তথ্য লোপাট করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, পূর্বের চেয়ে আরও দৃঢ় মনোবল নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য সকল কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

দিনাজপুরে বাস দুর্ঘটনায় আহত ২০

জেলা প্রতিনিধি :

দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে এক দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর যাওয়ার পথে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের চাম্পাতলী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর, প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টা শেষে সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রংপুর থেকে রেকার এনে বাসটি উদ্ধার করেন।

দশমাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, শামীম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে পড়ে। এতে ২০ জন যাত্রী আহত হন। পরে, দশমাইল হাইওয়ে থানা পুলিশ, সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সৈয়দপুর ২০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়।

জনগণের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে হবে : ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের জনগণের সেবা দিয়ে তাদের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী । শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, “জুলাইয়ের ঘটনাগুলোর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে সামাজিকভাবে কলঙ্কিত করেছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে আমরা এখনো নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জা পাই।” তিনি আরও বলেন, “এই ট্রমা থেকে মুক্তি পেতে দেশের মানুষের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে। একমাত্র সেবার মাধ্যমেই আমরা আমাদের হারানো গৌরব ও ভাবমূর্তি ফিরে পেতে পারি, ইনশাআল্লাহ।”

কমিশনার পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনের সঙ্গে জড়িত থেকে পুলিশের দাবির পক্ষে সুপারিশ করতে। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা এককভাবে কিছু পরিবর্তন আনতে পারলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বড় প্রভাব ফেলা সম্ভব।”

এছাড়া তিনি পদমর্যাদা নির্বিশেষে পুলিশ বাহিনীতে ঐক্যের গুরুত্বের উপর জোর দেন এবং সমিতিকে আর্থিক সহায়তা সহ নিজের সহায়তারও আশ্বাস দেন।

নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ২০২৪ নির্বাচন ও পরবর্তী সংস্কারের পথ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০২৪ সালে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করেছিল, যা দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে। একই বছরে গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হয়।

জাতীয় নির্বাচন এবং বিএনপির বর্জন

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে, এই নির্বাচন বিএনপি ও কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দলের বর্জনের কারণে বিতর্কিত হয়ে ওঠে। নির্বাচন কমিশন ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির তথ্য ঘোষণা করলেও মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং সরকারি পরিসংখ্যানের মধ্যে অসঙ্গতি ছিল। বিরোধী দলের অনুপস্থিতি, অনিয়ম এবং একতরফা নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

২০২৪ সালের মে থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে দেশের প্রায় ৪৬০টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালিত হলেও, সহিংসতা এবং অনিয়মের কারণে ওই নির্বাচনও বিতর্কিত হয়। বিএনপি ও তার মিত্ররা নির্বাচন বর্জন করে, যার ফলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন

এছাড়া, মার্চ মাসে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও কুমিল্লার মেয়র পদে উপনির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।

ইসি পুনর্গঠন এবং সংস্কার কমিশন গঠন

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এই সরকারের অধীনে নির্বাচনি সংস্কার প্রবর্তনের জন্য দুটি কমিশন গঠন করা হয়। একটি হলো ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং অন্যটি ড. তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। এই কমিশনগুলো বর্তমানে প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।

কাজী হাবিবুল আউয়ালের পদত্যাগ

২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ও তার চার সহকারী কমিশনার পদত্যাগ করেন। ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শুরু করা হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশনটি বিভিন্ন বিতর্কের মুখে পড়ে, বিশেষ করে ৭ জানুয়ারির নির্বাচন এবং স্থানীয় নির্বাচনে অনিয়ম রোধে ব্যর্থতার জন্য।

নতুন কমিশনের নেতৃত্বে ইসি পুনর্গঠন

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। ২১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ এম এম নাছির উদ্দিনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন। ২৪ নভেম্বর, নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নতুন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। তার নেতৃত্বে কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

তবে, নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষে নিহত ২২

অনলাইন ডেস্ক:

আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৯ পাকিস্তানি সেনা এবং তিন বেসামরিক আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে তোলো নিউজ জানিয়েছে, আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী পাকতিয়া প্রদেশে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনী খোস্ত প্রদেশের আলি শির এলাকায় বেশ কয়েকটি পাকিস্তানি সামরিক পোস্টে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি, পাকতিয়া প্রদেশের দান্দ-ই-পাতান এলাকায় দুটি পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট দখল করার দাবি করেছে তারা।

এছাড়া, পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে দান্দ-ই-পাতান জেলায় তিন আফগান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি সেনাদের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ৫১ জন আফগান নাগরিক নিহত হওয়ার পর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ড. ইউনুসের প্রস্তাবের প্রতি আপত্তি বিএনপি’র

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের প্রস্তাবে ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর করার প্রতি আপত্তি জানিয়ে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মতে, প্রধান উপদেষ্টার এই পরামর্শ বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৭ বছর হওয়া উচিত, যার মানে হল, নতুন করে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। এটা কোনোভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি প্রধান উপদেষ্টা হয়ে নির্বাচন কমিশনের কাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কাজ, তাদের ওপর এটা ছেড়ে দেওয়া উচিত।’ মির্জা ফখরুল, প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘এভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত ছিল। এতে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হতো না।’

বিএনপি মহাসচিব এসময় দাবি করেন, ‘এ ধরনের পরামর্শে মানুষের মনে আশঙ্কা তৈরি হবে, এবং এটা নির্বাচনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার ইঙ্গিত দেয়। জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে চাইছে।’

গাজীপুরে পরিবেশ ও বনভূমি সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, বনভূমি ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তারা।

শনিবার গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি কীভাবে বন দখলকারীদের প্রতিরোধ করতে হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে দখল হওয়া জমি উদ্ধার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকদের বনের সীমানা নির্ধারণের কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর গাজীপুরে দখল হওয়া ৯০ একর বনভূমির মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬ একর উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃক্ষনিধন ও শিল্পকারখানার দূষণ বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে সব দিক পর্যালোচনা করতে হবে। নবায়নের সময় জনগণের মতামত নেওয়া হবে।’

এছাড়াও, স্থানীয় পরিবেশ সমস্যা, বনভূমি দখল এবং দূষণ নিয়ে মতামত দেন উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন উপদেষ্টা। তিনি পরিবেশ রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার, আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের অধিনায়ক, ৬৩ বিজিবির অধিনায়ক, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সচিব, বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা।

দেশের আবাসন বাজারে মন্দা: বাড়ছে দাম, কমছে চাহিদা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের আবাসন খাতে মন্দাভাব বিরাজ করছে, যেখানে বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রকল্পগুলিতেও দেখা দিয়েছে খরা। ব্যবসায়ীরা একের পর এক কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পর এখন পথে বসার শঙ্কায়। অন্যদিকে, আবাসন বাজারে ফ্ল্যাট এবং অ্যাপার্টমেন্টের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদা আরও কমে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে ফ্ল্যাটের দাম প্রতি স্কয়ার ফিটে ১০ হাজার টাকার বেশি বেড়েছে।

রিহ্যাব সূত্রে জানা গেছে, গুলশান এলাকায় তিন বছর আগে প্রতি স্কয়ার ফিট ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ২৬ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বনানী এবং ধানমন্ডি এলাকায়ও দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বনানী এলাকায় বর্তমান দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে, যা বিগত সময়ে ছিল ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। ধানমন্ডির দামও বেড়ে ১৭ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগে ছিল ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে।

অন্যদিকে, মিরপুর এবং বনশ্রী-আফতাবনগরসহ অন্যান্য এলাকাতেও ফ্ল্যাটের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গুলশান, বনানী, এবং ধানমন্ডি এলাকায় জমির সংকট এবং বড় গ্রাহকদের চাহিদা থাকার কারণে এসব এলাকায় ফ্ল্যাটের দাম অনেক বেশি, এবং ভবিষ্যতে তা কমার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া নির্মাণ খরচ বৃদ্ধি, উপকরণের দাম বাড়া, এবং ড্যাপের কারণে নতুন প্ল্যান পাস না হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে আবাসন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, যদি নির্মাণ উপকরণের দাম কমে, তাহলে ব্যবসা আবার ঘুরে দাঁড়াবে। তবে বর্তমানে, ছোট ফ্ল্যাটের খরচই ৭৫ লাখ টাকার বেশি হচ্ছে, আর বড় ফ্ল্যাটের খরচ আরও বেশি।

একটি প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী পদে কর্মরত সাবিহা তন্ময় জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাট কেনার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু দাম বাড়ায় তার স্বপ্ন আর পূর্ণ হয়নি। তিনি বলেন, “আশা ছিল সঞ্চয়ে একটা ফ্ল্যাট কিনবো, তবে বাড়তি দামের কারণে এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে না।”

এদিকে, রিহ্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভুঁইয়া ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) পরিকল্পনার বিষয়ে সমালোচনা করে বলেন, এই নতুন পরিকল্পনার ফলে ভবনের আয়তন কমে যাচ্ছে, যা ব্যবসায়ী, জমির মালিক এবং ক্রেতাদের জন্য ক্ষতিকর। তিনি আরও বলেন, “যদি প্ল্যান পাসের সমস্যা সমাধান না হয়, তবে অনেক আবাসন প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে।”

ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা উন্নত করার জন্য রাজউক নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) তৈরি করেছে, যা গত বছরের আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানা সমস্যা এবং সমালোচনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

এ অবস্থায়, আবাসন ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার জন্য নির্মাণ উপকরণের দাম কমার এবং ড্যাপের সংশোধনমূলক উদ্যোগের আশায় রয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার সাংবাদিকদের সচিবালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ফলে কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন (কেপিআই)সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপত্তা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার শিগগিরই বিদ্যমান প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পর্যালোচনা করবে এবং নতুন অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড ইস্যু করতে তথ‍্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) মাধ্যমে সব স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে নতুন অ‍্যাক্রিডিটেশনের আবেদন আহ্বান করবে।

এই সময়ে যেকোনো ইভেন্টের জন্য সাংবাদিকরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে নিয়মিত অস্থায়ী অ্যাক্সেস কার্ড পাবেন। সরকার সাংবাদিকদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এই সময়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছে।

সর্বশেষ খবর

যেসব ভুলে নষ্ট হচ্ছে আপনার পছন্দের গাছ

0
অনলাইন ডেস্ক: শখ করে পাতাবাহার বা ফুলের গাছ কিনে বারান্দায় রাখলেন। প্রথম কয়েক দিন গাছটিও বেশ সতেজ ছিল। সবুজ পাতায় ঘর ভরে উঠছে দেখে মনও...