ছাপাসংক্রান্ত কাজে বিলম্বের কারণে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব বই পাবেনা শিক্ষার্থীরা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে সব পাঠ্যবই পাবে না। শিক্ষাক্রম পরিবর্তন, বই পরিমার্জন, নতুন দরপত্র প্রক্রিয়া এবং ছাপাসংক্রান্ত কাজে বিলম্বের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ছাপার কাজ ভালোভাবে এগোলেও চতুর্থ থেকে নবম-দশম শ্রেণির বইয়ের ছাপার কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক (প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি) শ্রেণির ১০ কোটি বই ছাপানো হবে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বই ছাপার কাজ শুরু হয়ে গেছে। নবম-দশম শ্রেণির বইয়ের ছাপার বিষয়ে ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে, এবং খুব শীঘ্রই ছাপার কার্যাদেশ দেয়া হবে।

এবার প্রায় ৪০ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণের লক্ষ্যে ছাপানো হবে, যার মধ্যে প্রাথমিকের প্রায় ২০ কোটি এবং মাধ্যমিকের ২০ কোটি বই রয়েছে। তবে, গত কয়েক বছর ধরে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেয়ার যে উৎসব ছিল, এবারে তা অনুষ্ঠিত হবে না।

বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান জানিয়েছেন, বইয়ের ছাপার কাজ দেরিতে শুরু হয়েছে এবং কাগজের সংকটও রয়েছে। তবে, প্রাথমিকের বই শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে বিতরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, বইয়ের মান নিয়ে কিছু অভিযোগ উঠেছে। যেমন, দ্বিতীয় শ্রেণির একটি বইয়ে এক পৃষ্ঠায় ছবি এবং অন্য পৃষ্ঠায় একই ছবি পুনরায় দেখা গেছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, মানসম্পন্ন বই নিশ্চিত করতে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিদর্শন প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে এবং কোনোভাবেই মানের ছাড় দেয়া হবে না।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান এ কে এম রিয়াজুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, নিম্নমানের বই বাতিল করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের মানহীন বই বিতরণ করা হবে না।