Tuesday, September 15, 2026
32 C
Dhaka
Tuesday, September 15, 2026

যাদের হাতে উঠলো এবারের এমি পুরস্কার

অনলাইন ডেস্ক:

টেলিভিশন জগতের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘এমি পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সময় গতকাল মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পিকক থিয়েটারে বসেছিল ৭৮তম এমির আসর। এতে সর্বোচ্চ ১৪টি পুরস্কার জিতে রেকর্ড গড়েছে অ্যাপল টিভির ‘উইডোস বে’। এর আগে সর্বোচ্চ ১৩টি পুরস্কার জয়ের রেকর্ড গড়েছিল ২০২৫ সালের কমেডি সিরিজ ‘দ্য স্টুডিও’। সেটাকে এবার টপকে গেল ‘উইডোস বে’। সেরা কমেডি সিরিজ ছাড়াও অভিনয়, পরিচালনা, চিত্রনাট্যসহ প্রধান পুরস্কারগুলো জিতে নিয়েছে এটি। অভিনয়েও এবার ঘটেছে বিরল ঘটনা। কমেডি এবং লিমিটেড সিরিজে সেরা অভিনেতা হয়েছেন ম্যাথিউ রাইস। এক আসরে একইসঙ্গে দুটি বিভাগে সেরা অভিনেতা হওয়ার নজির আর কারোর নেই। ‘উইডোস বে’ এবং ‘দ্য বিস্ট ইন মি’র জন্য পুরস্কার দুটি পেয়েছেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, ২০১৮ সালে ‘দ্য আমেরিকানস’ সিরিজের জন্য ড্রামা বিভাগেও সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন ম্যাথিউ। ফলে এমির ইতিহাসে তিনিই একমাত্র অভিনেতা, যিনি ড্রামা, কমেডি এবং লিমিটেড সিরিজ তিন বিভাগেই সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন। টানা পাঁচবার এমি জেতার রেকর্ড গড়লেন অভিনেত্রী জিন স্মার্ট। লিমিটেড সিরিজ ‘হ্যাকস’-এর জন্য তিনি এবারও সেরা হয়েছেন। এই সিরিজের জন্য গত চার আসরেও তিনি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন। টানা পাঁচবার এমিতে সেরা অভিনেত্রী হওয়ার রেকর্ড হওয়ার আর কারোর নেই। শুধু তাই নয়, এ নিয়ে জিন স্মার্ট মোট আটটি এমি জিতেছেন। ফলে জুলিয়া লুইস-ড্রেফাস ও ক্লোরিস লিচম্যানের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৮টি এমি জেতার নজির গড়েছেন। এছাড়া এবার ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এর জন্য সেরা পার্শ্ব চরিত্রের অভিনেত্রী (ড্রামা সিরিজ) হয়েছেন অ্যালিসন জেনি। এ নিয়ে তারও আটবার এমি জয়ের রেকর্ড হলো। এবারের এমিতে নিঃসন্দেহে চমকে দিয়েছে ‘উইডোস বে’। ভৌতিক-কমেডি ঘরানার এই সিরিজ ১৯টি মনোনয়ন পেয়েই আভাস দিয়েছিল, আসরটি এবার তার দখলে থাকবে। হলোও তাই। আর সাতটি করে পুরস্কার জিতেছে এইচবিওর মেডিক্যাল ড্রামা ‘দ্য পিট’ ও লিমিটেড সিরিজ ‘ডিটিএফ সেন্ট লুইস’।

 

বিজয়ীর তালিকা-

 

সেরা ড্রামা সিরিজ : দ্য পিট।

 

সেরা কমেডি সিরিজ : উইডো’স বে।

 

সেরা লিমিটেড সিরিজ : ডিটিএফ সেন্ট লুইস।

 

সেরা অভিনেতা (ড্রামা) : নোয়া ওয়াইল (দ্য পিট)।

 

সেরা অভিনেত্রী (ড্রামা) : রিয়া সিহর্ন (প্লারিবাস)।

 

সেরা অভিনেতা (কমেডি) : ম্যাথিউ রাইজ (উইডোস বে)।

 

সেরা অভিনেত্রী (কমেডি) : জিন স্মার্ট (হ্যাকস)।

 

সেরা অভিনেতা (লিমিটেড সিরিজ) : ম্যাথিউ রাইজ (দ্য বিস্ট ইন মি)।

 

সেরা অভিনেত্রী (লিমিটেড সিরিজ) : স্যালি ফিল্ড (রিমার্কেবলি ব্রাইট ক্রিয়েচারস)।

 

ভ্যারাইটি সিরিজ : দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কোবার্ট।

 

সেরা চিত্রনাট্য (ড্রামা) : ভিনস গিলিগান (প্লারিবাস)।

 

সেরা চিত্রনাট্য (কমেডি) : কেটি ডিপোল্ড (উইডোস বে)।

 

সেরা পরিচালনা (ড্রামা) : সল মেতস্টেইন (স্লো হর্সেস)।

 

সেরা পরিচালনা (কমেডি) : হিরো মুরাই (উইডোস বে)।

বিতর্কের জবাবে যা বললেন সিডনি

অনলাইন ডেস্ক:

হলিউডের আবেদনময়ী অভিনেত্রী সিডনি সুইনি এবার এক স্পোর্টস বিজ্ঞাপনে সম্পূর্ণ খোলামেলা ও নগ্ন অবতারে হাজির হয়ে নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে এসব কটাক্ষের বিপরীতে মুখে কোনো মন্তব্য না করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারকাদের ছবি পোস্ট করে এক রহস্যময় নীরব জবাব দিয়েছেন ‘দ্য হাউসমেইড’ খ্যাত এই তারকা। সম্প্রতি স্পোর্টস প্রেডিকশন ও ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ‘নোভিগ’-এর বিজ্ঞাপনে দেখা মেলে সিডনির। সেখানে কোনো পোশাক না পরে কেবল বাস্কেটবল, রাগবি বল ও স্পোর্টস জার্সি দিয়ে শরীর ঢেকে ক্যামেরাবন্দী হন তিনি। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়। নেটিজেনদের একাংশের অভিযোগ, স্পোর্টস বিজ্ঞাপনে এভাবে নারী শরীরকে পণ্যের মতো তুলে ধরা অপ্রয়োজনীয় ও আপত্তিকর। সমালোচনার ঝড় উঠলেও সিডনি সরাসরি কোনো বিবৃতি দেননি। উল্টো নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সেরেনা উইলিয়ামস, রোন্ডা রাউসি, সু বার্ড, মেগান র‌্যাপিনো, রব গ্রঙ্কোস্কি ও জেসন কেলসির মতো তারকাদের ছবি একের পর এক শেয়ার করতে থাকেন। অতীতে এই ক্রীড়াতারকারাও খেলাধুলাভিত্তিক বিভিন্ন ফটোশুটে খোলামেলা পোশাকে অংশ নিয়েছিলেন। সিডনির এই নীরব প্রতিবাদকে নেটিজেনরা সমালোচকদের প্রতি পরোক্ষ চড় হিসেবেই দেখছেন। তবে শুধু সাধারণ দর্শকই নন, বিজ্ঞাপনে নারী শরীরকে যৌন উপাদান হিসেবে ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্রীড়াজগতের তারকারাও। চারবারের অলিম্পিক সোনাজয়ী সাঁতারু আরিয়ানে টিটমাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নারী খেলাধুলাকে যৌনতার মোড়কে তুলে ধরার এই মানসিকতা এখন বন্ধ হওয়া উচিত। এটি নারী ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘ পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রতি চরম অপমান।’ তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে ওয়াটার পোলো তারকা টিলি কার্নসও বিজ্ঞাপনটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। অবশ্য বিতর্কের মুখে অভিনেত্রী ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আত্মপক্ষ সমর্থন করা হয়েছে। সিডনি জানান, প্রচারণার মূল লক্ষ্য ছিল স্পোর্টস নিয়ে একটি মজাদার আইডিয়া উপস্থাপন করা। বিজ্ঞাপনের সৃজনশীল ভাবনায় তিনি নিজেই শুরু থেকে যুক্ত ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ইকুইটি পার্টনার হয়েছেন। নোভিগের সিইও জ্যাকব ফোর্টিনস্কি দাবি করেন, বিনোদন জগতের কোলাহল ছেড়ে খেলাধুলার দিকে মনোযোগ ফেরাতেই সিডনি এই উদ্যোগে শামিল হয়েছেন।

ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলায় বাতিল হলো ম্যাকলমোরের কনসার্ট

অনলাইন ডেস্ক:

মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। এড শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের অংশ তিনি। বেশ কয়েকটি কনসার্ট এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। সেগুলোতে ছিলেন এই গায়ক। গত ৪ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এর একটি কনসার্টে মঞ্চে উঠে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলেছিলেন তিনি। এটাই যেন কাল হলো তার। ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলে আলোচনায় আসার পর বাকি কনসার্টগুলো থেকে বাদ পড়েছেন ম্যাকলমোর। যুক্তরাষ্ট্র সফরের আয়োজক মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ জানিয়েছে, আসন্ন কয়েকটি কনসার্টের ভেন্যু কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছিল, ম্যাকলমোরকে অনুষ্ঠানের তালিকায় রেখে কনসার্ট আয়োজন করতে তারা রাজি নয়। এতে পুরো সফরের অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার আশঙ্কা এবং লাখো দর্শকের ওপর প্রভাব পড়ার কথা জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ম্যাকলমোরকে বাকি কনসার্টগুলোতে আর পরিবেশন না করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই কনসার্টে ম্যাকলমোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলাই এ সফরে যুক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। গাজা থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীর পর্যন্ত ফিলিস্তিনিরা যেন জানেন, তাদের কথা ভুলে যাওয়া হয়নি এমন বার্তাও দেন তিনি। পরে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ছবি প্রদর্শনের সময় নিজের প্রতিবাদী গান ‘হিন্দস হল’ পরিবেশন করেন। ম্যাকলমোরের ওই বক্তব্যের পর ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল তাকে এড শিরানের সফরের বাকি অনুষ্ঠানগুলো থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি আবেদন শুরু করে। তাদের বক্তব্য ছিল, কনসার্টের মঞ্চকে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচারের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এদিকে ম্যাকলমোর জানিয়েছেন, এড শিরানের সঙ্গে এ বিষয়ে তাদের মধ্যে কঠিন আলোচনা হয়েছে। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তার মতামত ও অনুভূতি সবসময় নিখুঁত বা ভদ্রভাবে প্রকাশ পায় না এবং কখনো কখনো মুহূর্তের আবেগে ভুলও হতে পারে। ম্যাকলমোর দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০২৪ সালে তিনি ‘হিন্দস হল’ নামে একটি প্রতিবাদী গান প্রকাশ করেন, যা গাজায় নিহত ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এর বাকি ১০টি অনুষ্ঠানের মধ্যে আটটিতে ম্যাকলমোরের পরিবেশনের কথা ছিল। আগামী শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় সফরটি আবার শুরু হওয়ার কথা। তবে ম্যাকলমোরকে বাদ দিয়েই এখন বাকি অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

মারা গেছেন নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব

অনলাইন ডেস্ক:

তরুণ নাট্যকার ও পরিচালক মারুফ হোসেন সজীব আর নেই। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সজীবের মৃত্যুর খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী। ফেসবুক পোস্টে মেহজাবিন লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মারুফ হোসেন সজীব ভাইয়ের সঙ্গে খুব বেশি কাজ করা হয়নি, কিন্তু অনেকবার দেখা হয়েছে। আমি যখন নিয়মিত নাটক করতাম, তখন উনার সঙ্গে দেখা হলেই কত কিছু নিয়ে কথা হতো।’ মেহজাবিন আরও লেখেন, ‘কত পরিকল্পনা, কত আইডিয়া ছিল উনার। আরও কত কিছু করতে চেয়েছিলেন। আল্লাহ যেন সজীব ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তার পরিবার ও প্রিয়জনদের এই কঠিন সময় সহ্য করার শক্তি ও সবর দান করেন। সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন।’ গতকাল মঙ্গলবার বাদ জোহর সজীবের জানাজা শেষে রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে। নির্মাতা আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন সজীব। কিছুদিন আগেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণ নির্মাতা। নাট্যাঙ্গনে নিজের গল্প ও নির্মাণশৈলীর জন্য পরিচিতি পেয়েছিলেন মারুফ হোসেন সজীব। তিনি নিজেই গল্প লিখতেন এবং সেই গল্পের নাটক নির্মাণ করতেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বেশ কিছু সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি। সজীবের নির্মিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘বিলোপ’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘রঙিন কাগজ’, ‘আধার’, ‘সিকিউরিটি গার্ল’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য’, ‘হাসি’, ‘বিকেল বেলার ছাদ’, ‘দুষ্ট মিষ্টি প্রেম’, ‘আদরের চাঁদ’, ‘জোড়া শালিকের ঘর’, ‘জলকৌড়ি’, ‘দু’জন দুজনার’, ‘বাবলার জাদুর বাক্স’, ‘খুশি’, ‘আজ আকাশে চাঁদ নেই’, ‘কথা বন্ধু’, ‘কাজল চোখের মেয়ে’, ‘আপনারা আমাকে শুনুন’, ‘আজকাল তুমি আমি’, ‘১০০ বিঘা ফুল বাগান’, ‘মুমতা’, ‘মেঘলা’ ও ‘নুসাইবা’। তরুণ এই নির্মাতার অকাল মৃত্যুতে নাট্যাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন চমক

অনলাইন ডেস্ক:

অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ পরিণতি ও নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করতে সোচ্চার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে অনলাইন বেটিংয়ের ফাঁদ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানালেন তিনি। ভিডিওতে জুয়ার ভয়াবহ পরিসংখ্যান ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরায় সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন এই অভিনেত্রী। ভিডিওতে শিহাব নামের এক যুবকের করুণ অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে চমক জানান, মাত্র ১ হাজার টাকা সহজ আয়ের লোভে পড়ে বেটিং শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে জমা টাকা তোলা ও হারানো অর্থ উদ্ধারের অজুহাতে স্বজনদের থেকে ঋণ নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ টাকা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয় সে। জেনারেল ইকোনমিক্স ডিভিশনের (জিইডি) ২০২৬ সালের এক রিপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে অভিনেত্রী জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ অনলাইন জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে দেশে অনলাইন জুয়ার আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকায়। এছাড়া, ২০২৬ সালের ডিবি তদন্তে একটি জুয়াড়ি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৫ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন শনাক্ত হয়েছে বলেও ভিডিওতে উল্লেখ করেন চমক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে চমক জানান, জুয়া শুধু একটি আর্থিক সংকট নয়, এটি একটি ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য ও পারিবারিক সমস্যা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫.৫% নারী এবং ১১.৯% পুরুষ জুয়ার কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যার ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। চমক তার সেই ভিডিওতে সামান্য প্রচারণার টাকার বিনিময়ে বেটিং অ্যাপের লিংক শেয়ার না করার জন্য দেশের অন্যান্য তারকা ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রতি আহ্বান জানান চমক। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স ২০২৫’-এর ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা বা প্রচারণা করা একটি গুরুতর অপরাধ, যার জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। সবশেষে, জুয়ার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে টাকা আয়ের সহজ পথ ছেড়ে নিজের কাজ ও দক্ষতার ওপর ভরসা রাখার আহ্বান জানান চমক। ভিডিওটি প্রকাশের পর নেটিজেনদের ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন চমক। এই সচেতনতামূলক ভিডিওটিকে তারা সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের কথা এমন, যখন অনেক তথাকথিত তারকা ও ইনফ্লুয়েন্সার সামান্য টাকার লোভে বেটিং অ্যাপের প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন চমকের এমন সামাজিক দায়বদ্ধতা অনুকরণীয়।

জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি পায়ের নিচে রেখে ডাকসুতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে জিন্নাহ ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছবি পায়ের নিচে রেখে প্রতিবাদ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার দুপুরে ডাকসু ভবনের প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে ছবি দুটি সাঁটিয়ে পদদলিত করেন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

 

প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা বলেন, ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি সম্মানের সঙ্গে প্রদর্শনের প্রতিবাদেই তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বাংলাদেশবিরোধী রাজনীতি বা পাকিস্তানপন্থী ভাবধারাকে সামনে আনার কোনো উদ্যোগ তাঁরা মেনে নেবেন না।

 

মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসুর প্রবেশপথের সামনে দুটি এবং সংগ্রহশালার ভেতরের মেঝেতে আরও দুটি ছবি সাঁটানো হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একজন ওয়াসিম উদ্দিন রাহাত বলেন, ভাষার জন্য রক্ত দেওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে জিন্নাহর মতো একজন নেতার ছবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় স্থান পাওয়া তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না।

 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ভাষার জন্য রক্ত দেওয়া সালাম, বরকতের দেশ। বাংলাদেশ ৩০ লাখ মানুষের রক্ত দিয়ে কেনা দেশ। সেখানে যে আমার ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছে, তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান দেওয়া আমরা কখনো সহ্য করব না।”

 

গোলাম আযমের ছবি মেঝেতে রাখার ব্যাখ্যায় ওয়াসিম উদ্দিন রাহাত বলেন, “গোলাম আযম একজন কুখ্যাত রাজাকার। সেই রাজাকারের ছবি ডাকসুতে স্থান পায়নি। তাই আমরা ঘৃণার প্রতীক হিসেবে মাটিতে লাগিয়েছি তাদের ছবি। এ দেশের মানুষের পায়ের নিচে থাকা উচিত তাদের।”

 

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ বলেন, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমার ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি তুলে ধরার কথা ছিল। তাঁর প্রশ্ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরার দায়িত্বে থাকা একজন প্রতিনিধি কীভাবে একজন পাকিস্তানপন্থী ব্যক্তির ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় সম্মানের সঙ্গে প্রদর্শনের উদ্যোগ নিতে পারেন।

 

শিব্বির বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষমতা দিয়ে এবং বাংলাদেশপন্থীদের ক্ষমতা দিয়ে জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পায়ের নিচে লাগালাম। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি সামনে আনা যাবে না।”

 

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সামনে রেখে রাজনীতি করা হয়েছে। এখন সেটির জায়গায় জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি আনার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটিও তাঁরা প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।

 

ইংলিশ ফর স্পিকারস অব আদার ল্যাংগুয়েজ বিভাগের শিক্ষার্থী আশ শামস বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জিন্নাহকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট তাঁরা লক্ষ্য করেছেন। ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরিয়ে নেওয়ার পরও এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা যায় বলে জানান তিনি।

 

আশ শামস বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত ডাকসুর প্রতিনিধিদের বাংলাদেশের পক্ষে এবং বাংলাদেশপন্থী অবস্থানে থাকার প্রত্যাশা তাঁদের।

 

যেভাবে শুরু হয় বিতর্ক

সংস্কারের পর গত রোববার ডাকসু সংগ্রহশালা নতুন করে চালু করা হয়। সেখানে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি রাখা হয়। এর একটি ছিল ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে, বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, দেওয়া তাঁর বক্তব্যের সময়ের ছবি। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।”

এ ছাড়া ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি এবং ডন পত্রিকায় প্রকাশিত ওই সম্মেলনসংক্রান্ত প্রতিবেদনের কাটিং রাখা হয়। পাশাপাশি তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবিও প্রদর্শন করা হয়।

 

তবে সংগ্রহশালায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি রাখা হয়নি বলে একাধিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রোববার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।

 

এর পর সোমবার দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। পরে ওই জায়গায় ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার একটি ছবি টানিয়ে প্রতিবাদ জানান ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা।

 

এদিকে সোমবারের ঘটনার পর ডাকসু সংগ্রহশালা পরিদর্শন করেন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক’ নামে শিক্ষকদের একটি সংগঠনের সদস্যরা। পরিদর্শন শেষে দেওয়া ব্রিফিংয়ে সংগঠনটির সদস্যরা ডাকসুর ভেতরে ‘মব’ করে ভাঙচুরের অভিযোগ তোলেন এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সোমবার পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

 

জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পদদলনের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ডাকসু সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত ছবি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হলো। একদিকে সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো প্রতীক বা ব্যক্তিত্বকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়েছে।

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৩৬ জন মারা গেছেন। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬ জনে।

 

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগে, একজন সিলেট এবং একজন চট্টগ্রাম বিভাগের।

 

একই সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩৯ জন রোগী হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৬২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে ৩৬৭ জন, চট্টগ্রামে ২৬৬, সিলেটে ১৯৩, বরিশালে ১০৯, খুলনায় ৯৮, ময়মনসিংহে ৮১, রাজশাহীতে ২৯ এবং রংপুরে ১৯ জন ভর্তি হয়েছেন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন।

 

এ সময়ে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ জনে। নমুনা পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ২০১ জনের শরীরে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন করে ৭৭ জন শনাক্ত হলেও এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি।

 

হামের উপসর্গে মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা বিভাগ। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এ বিভাগে ৪২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেট বিভাগে মারা গেছেন ১৬২ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭১, বরিশালে ৫৭, খুলনায় ৩৯ এবং রংপুরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বয়সভিত্তিক মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়নি। রোগতত্ত্ববিদদের মতে, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া মৃত্যুগুলোকে হামজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৫ মার্চ থেকে নিয়মিতভাবে হামের পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করছে। প্রায় ছয় মাসে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট বছর ধরে দেশে হামে সংক্রমণের সংখ্যা ৪০০-এর বেশি হয়নি। ২০২৫ সালে হাম দূরীকরণের লক্ষ্য ছিল এবং ২০২৬ সালে হাম নির্মূলের সনদ পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। তবে চলতি বছরে পরিস্থিতি উল্টো দিকে গেছে।

 

জনস্বাস্থ্যবিদেরা এ পরিস্থিতির পেছনে টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বছরের শুরুতে প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও শুরুতে যথাযথ নজর দেওয়া হয়নি। মার্চ থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে গণটিকাদান কর্মসূচি চালানো হয়। তবে ওই সময়ও প্রায় ৪০ লাখ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা সব রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয় না। ফলে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দিয়ে দেশে হামের প্রকৃত বিস্তারের পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।

টাঙ্গাইলে শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টাঙ্গাইলে শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে রশিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। মঙ্গলবার(১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দণ্ডিত আসামির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ ওই রায় দেন। এছাড়াও আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিত রশিদ মিয়া (৫৫) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে।

 

ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামি যে সম্পদের মালিক হবেন সেই সম্পদ থেকে ভিকটিমকে দেওয়া হবে। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর টাঙ্গাইলকে দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়ার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমান অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরো বলেন, যৌননিগ্রহের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা আসামি রশিদ মিয়া, তাকে উত্তরাধিকার ঘোষণা করেন এবং শিশুর ভরনপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলে প্রকাশ করেন। শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরনপোষণ বাবদ মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ পূর্বক ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করারও নির্দেশ দেন আদালত।

 

টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়। এসময় প্রতিবেশি(সম্পর্কে দাদা) দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়া তাকে বলে শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছে। পরে শিশুটিকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় এবং জোর পূর্বক যৌননিগ্রহ চালায়। এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে জানায়। পরে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে শিশুটি তার মায়ের কাছে যৌননিগ্রহের কথা খুলে বলে। এ ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

 

২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভিকটিম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজহারের জন্য আদেশ দেন। পরে দণ্ডিত আসামি রশীদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে ভিকটিমের কন্যা সন্তানের পিতা বলে নিশ্চিত হয়।

মানবাধিকার নিয়ে মাহদী-টিআইবির পাল্টাপাল্টি দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গত সাত মাসে দেশে রাজনৈতিক কারণে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তাঁর দাবি, এ সময়ে দেশে অভূতপূর্ব বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় মদদে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা বা হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেনি। তবে তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, টিআইবির কাছে থাকা তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

 

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহি সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন মাহদী আমিন ও ইফতেখারুজ্জামান। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

 

মাহদী আমিন বলেন, গত সাত মাসে বিএনপি সরকার অভূতপূর্ব বাক্‌স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী জঞ্জাল একবারে দূর করা সম্ভব নয়।

 

তিনি বলেন, “গত সাত মাসের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একবারের জন্যও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় দেখা যায়নি। কোথাও রাষ্ট্রীয় মদদে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা হেফাজতে মৃত্যু হয়নি। রাষ্ট্রীয় মদদে বিরোধী দলের মত ও পথ কিংবা ভিন্ন আদর্শের মূল্যবোধ হরণ করা হয়নি।”

 

দেশে ‘ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাক্‌স্বাধীনতা’ নিশ্চিত হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, কোথাও কোথাও অশালীন বা অস্রাব্য আচরণ হলেও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতা ও সহাবস্থান দেখা যাচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাও ছিল এমনই।

 

মাহদী আমিন বলেন, সরকারের ক্ষমতার উৎস জনগণ। বিএনপি সরকারের মধ্যে বিভিন্ন মত, শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও সমর্থন রয়েছে। তাঁর দাবি, অতীতে ক্ষমতায় থাকা সরকারের ক্ষমতার উৎস জনগণ ছিল না। রাষ্ট্রযন্ত্র, বিভিন্ন বাহিনী, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে ক্ষমতা ধরে রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।

 

তবে মাহদী আমিনের বক্তব্যের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে তথ্য বলছে ভিন্ন কথা।”

 

তিনি বলেন, বাক্‌স্বাধীনতা চর্চার কারণে গত সাত মাসে কমপক্ষে ৫২টি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাক্‌স্বাধীনতার কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করা ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রত্যাশিত ছিল না।”

 

মানবাধিকার পরিস্থিতির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, পুলিশ এখনো নৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর মধ্যেও বেশ কিছু ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করছে।

 

টিআইবির হিসাবে, গত সাত মাসে কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ১ হাজার ৭০০টির বেশি। এর মধ্যে ৫০৩টি ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া হেফাজতে নির্যাতনের ৫১টি ঘটনা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একটি গুমের ঘটনাতেও একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত ছিল বলে জানান তিনি।

 

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার ফল দীর্ঘমেয়াদি হলে তা শুধু বুমেরাং নয়, আত্মঘাতীও হতে পারে। আগামী দিনে আবার ২০২৪ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা তাঁরা চান না।

 

তিনি বলেন, “আশা করি, যারা দায়িত্বে আছেন, ২৪-এর শিক্ষাটা তারা গ্রহণ করবেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিশ্রুত হবেন।”

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র পরিবর্তনের পথে অন্যতম প্রতিরোধক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলকে নিজেদের সংস্কারের উদ্যোগ নিজেদেরই নিতে হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব নিজেদের সুবিধায় ব্যবহারের প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।

 

আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তাঁর অভিযোগ, দ্বিতীয় দফায় যেসব অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিতেই যথেষ্ট অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। মানবাধিকার সুরক্ষা ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রকাঠামো গড়তে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

জবাবে মাহদী আমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো কিছু হচ্ছে না। তাঁর দাবি, আগের সময়ে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। এখন রাষ্ট্রের কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে।

 

আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রায় ১০০টি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা বড় অর্জন। আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনে পরে আইন সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

 

মাহদী আমিন বলেন, “একবারে শতভাগ পরিবর্তন সম্ভব নয়, পৃথিবীর কোথাও তা হয় না।” তবে বিভিন্ন পর্যায়ে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

আলোচনা সভায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এ খাতে ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা রয়েছে। এক দিন বা এক মাসে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে আগামী ছয় মাস, দুই বছর ও পাঁচ বছরে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছরে জ্বালানি খাতে যতটা সম্ভব স্বাবলম্বী হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

 

সরকার নারী ও তরুণদের যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, বিএনপি সরকারের ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

সভায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির বলেন, শুধু কাগজে-কলমে ভালো প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেই হবে না। প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে জবাবদিহির চর্চা কতটা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

 

তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় আসার আহ্বান জানান। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমেও গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

সভায় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও নারী নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের প্রবেশপথের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

 

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যান। বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে।

 

ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এখনও নিশ্চিত নই। আসল কারণ বের করার চেষ্টা করছি।’ সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

 

ঘটনার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এ বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। বিস্ফোরণের ধরন ও ব্যবহৃত বস্তু সম্পর্কে এসব আলামত পরীক্ষা করে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

এর আগে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

 

রায় ঘোষণার পরপরই সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের সঙ্গে রায়ের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটি এখনো তদন্তাধীন।

সর্বশেষ খবর

যাদের হাতে উঠলো এবারের এমি পুরস্কার

0
অনলাইন ডেস্ক: টেলিভিশন জগতের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘এমি পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সময় গতকাল মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পিকক থিয়েটারে বসেছিল ৭৮তম এমির আসর। এতে...