নিজস্ব প্রযুক্তিতে ভারতীয় নৌবাহিনীতে নতুন দুই যুদ্ধ জাহাজ

অনলাইন ডেস্ক:

ভারতীয় নৌবাহিনীতে দুটি নতুন যুদ্ধ জাহাজ কমিশন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে এ দুই জাহাজকে কমিশন দেওয়া হয়। দেশটির নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ভারতের আত্মনির্ভরতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে অগ্রগতির একটি বড় দৃষ্টান্ত। এই ডুয়াল কমিশনিং ভারতের শিপবিল্ডিং ক্ষমতা ও প্রধান প্রতিরক্ষা শিপইয়ার্ডগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রতীক। এনডিটিভি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কমিশনকৃত জাহাজগুলোর নাম ‘আইএনএস হিমগিরি’ ও ‘আইএনএস উদয়গিরি। এটি দেশটির প্রজেক্ট ১৭ আলফা (পি-১৭ এ) এর অংশ। প্রতিটি জাহাজে ৭৫ শতাংশের বেশি অংশ ব্যবহার করা হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তি। হিমগিরি জাহাজ তৈরি করা হয়েছে কলকাতায়। উদয়গিরি তৈরি করা হয়েছে মুম্বাইয়ে। প্রতি জাহাজের ওজন প্রায় হাজার ৭০০ টন এবং লম্বা ১৪৯ মিটার। সর্বোচ্চ গতি ২৮ নট বা ৫২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। প্রতিটি জাহাজে দুটি হেলিকপ্টার পরিচালনার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া ৮টি ব্রাহমোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম। আরও রয়েছে অ্যান্টি-সাবমেরিন ব্যবস্থা। উভয় জাহাজেই রয়েছে আধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তি, উন্নত অস্ত্র ও সেন্সর সিস্টেম।

এগুলো সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা, গভীর সমুদ্র অভিযান এবং বহুমুখী মিশনে সক্ষম। উদয়গিরি তার শ্রেণীর মধ্যে দ্রুততম জাহাজ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া মডুলার নির্মাণ পদ্ধতির এই জাহাজগুলো ভারতের শিপইয়ার্ডগুলোতে তৈরি করা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়ছে, উভয় জাহাজের ডিজাইন করেছে দেশটির নৌবাহিনী। বিশেষত্ব হিসেবে বলা হয়েছে, উদয়গিরি দেশটির নৌবাহিনীর ১০০তম ডিজাইন করা জাহাজ। কমিশনের পর উভয় জাহাজ দেশটির নৌবাহিনীর ইস্টার্ন ফ্লিটে যোগ দেবে। যা ভারতীয় মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা করতে আরও সক্ষম করবে। নতুন ফ্রিগেটগুলো সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ সুরক্ষা, নৌসীমা রক্ষা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীল শক্তি প্রদর্শনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীলগিরি-ক্লাস ফ্রিগেটগুলো পূর্ববর্তী শিবালিক-ক্লাসের তুলনায় আরও উন্নত, বড় এবং স্টেলথ সক্ষম। যা ভারতের নৌ-সামরিক সক্ষমতাকে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে। জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিরক্ষা শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।