অনলাইন ডেস্ক:
অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রে মানবাধিকারকে স্থান দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং সমতা, মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে অর্জিত সাফল্যের মাপকাঠিতেই মূল্যায়ন করতে হবে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি।
গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। ঢাকায় প্রাপ্ত এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশি প্রতিনিধি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, অর্থনৈতিক অগ্রগতি যেন সরাসরি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ন্যায়সংগত করব্যবস্থা গড়ে তোলা, সাশ্রয়ী উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, ঋণের স্থায়িত্ব রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার সাধন করা অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনা চলাকালীন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক তার বক্তব্যে বলেন যে, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীভবন, সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের ভারী বোঝা এবং বৈষম্য ছড়িয়ে পড়ার মতো নেতিবাচক বিষয়গুলো সার্বিকভাবে মানবাধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে চলেছে।
উক্ত সংলাপে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীরা কাঠামোগত বৈষম্য সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এর জন্য আরও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, ঋণ পুনর্গঠনে সমতা আনয়ন, জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজের অর্থবহ অংশগ্রহণ কামনা করেন।
সংলাপের উন্মুক্ত আলোচনায় জোরালোভাবে তুলে ধরা হয় যে, চলমান বিভিন্ন সংঘাত, অতিরিক্ত ঋণ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে শিক্ষা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা বলয় এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ আজ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উরুগুয়ের স্থায়ী মিশনের যৌথ উদ্যোগে অত্যন্ত সফলভাবে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপে মরক্কোর স্থায়ী প্রতিনিধি ওমর হিলালে, উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি লরা দুপুই লাসের, দক্ষিণ আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধি এমক্সোলিসি এনকোসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি স্তাভরোস লামব্রিনিদিস সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে বিশিষ্ট মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইগনাসিও সাইস, প্রখ্যাত অধ্যাপক সাকিকো ফুকুদা-পার এবং জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ আতিয়া ওয়ারিসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজেদের মূল্যবান মতামত ও বক্তব্য তুলে ধরেন।
পরিশেষে, চলমান এই সংলাপে ২০৩০ সালের পরবর্তী সময়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থার মূল কাঠামোর মধ্যে মানবাধিকারের সর্বজনীন নীতিগুলোকে জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আবশ্যকতা ও প্রয়োজনীয়তার ওপর সর্বসম্মতভাবে গভীর গুরুত্বারোপ করা হয়।










