অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের অনীহায় অনিশ্চয়তায় আইপিএলের বাকি অংশ

অনলাইন ডেস্ক:

ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে স্থগিত হওয়া ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আবার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সব কিছু ঠিক থাকলে টুর্নামেন্টটি আগামী শুক্রবার বা শনিবার থেকে ফের মাঠে গড়াতে পারে। তবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের অনীহা এই পুনরায় শুরুর প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সামরিক উত্তেজনার কারণে আইপিএল স্থগিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশিরভাগ বিদেশি খেলোয়াড় আতঙ্কে ভারত ছেড়ে চলে যান। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ সংস্থা এএপি’র দাবি অনুযায়ী, এবার আইপিএলের বাকি অংশে অংশ নিতে ভারত ফিরতে আগ্রহী নন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা নিয়ে তারা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

এই বছর আইপিএলে অংশ নিতে ১৫ জন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ভারতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন – মিচেল স্টার্ক, জেইক ফ্রেজার-ম্যাগার্ক (দিল্লি ক্যাপিটালস), জশ হ্যাজলউড, টিম ডেভিড (রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (চোটের কারণে আগেই ফিরে গেছেন), মার্কাস স্টয়নিস, জশ ইংলিস, অ্যারন হার্ডি, জাভিয়ের বার্টলেট (পাঞ্জাব কিংস), প্যাট কামিন্স, ট্রাভিস হেড, অ্যাডাম জাম্পা (সানরাইজার্স হায়দরাবাদ), স্পেন্সার জনসন (কলকাতা নাইট রাইডার্স), মিচেল মার্শ (লখনৌ সুপার জায়ান্টস), ও নাথান এলিস (চেন্নাই সুপার কিংস)। টুর্নামেন্ট স্থগিত হওয়ার পর বাকিরা দ্রুত দেশ ত্যাগ করেন।

সিডনি বিমানবন্দরে সম্প্রতি দেখা গেছে দিল্লি ক্যাপিটালসের পেসার মিচেল স্টার্ককে তার স্ত্রী ও অস্ট্রেলিয়ান নারী ক্রিকেটার অ্যালিসা হিলির সঙ্গে। তারা মিডিয়ার মুখোমুখি না হলেও, উপস্থিত সংবাদকর্মীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একইভাবে, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের প্যাট কামিন্স ও ট্রাভিস হেডও পরিবার নিয়ে দেশে ফিরে গেছেন।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের অনীহার পেছনে শুধু নিরাপত্তা নয়, রয়েছে সময়সূচির জটিলতাও। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) তাদের ২৫ মে পর্যন্ত অনাপত্তিপত্র (NOC) দিয়েছিল। কিন্তু আইপিএল যদি পুনরায় শুরু হয়, তবে তা শেষ হতে পারে ৩০ মে থেকে ১ জুনের মধ্যে। এই অবস্থায় বিসিসিআই যদি সিএ’র কাছ থেকে বাড়তি সময়ের ছাড়পত্র না পায়, তাহলে অস্ট্রেলিয়ানরা হয়তো আর অংশ নিতে পারবেন না।

এদিকে, খেলোয়াড়রা মাঝপথে চলে যাওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাদের পুরো পারিশ্রমিক দেবে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এবারের নিলামের আগে বিসিসিআই চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করেছিল যে খেলোয়াড়দের পুরো মৌসুমে খেলার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতির দায় কোনো খেলোয়াড় বা বোর্ডের নয়, তবুও অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের অনীহা ও সময়সূচি সংশ্লিষ্ট জটিলতা আইপিএলের বাকি অংশে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।