ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

আগামী বছর চুক্তিবদ্ধ ৪০ কার্গোর ২৬টি সরবরাহ করবে কাতারএনার্জি

প্রকাশিত: 8 November 2026, 6:23 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৭ সালে দেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে।

আগামী বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ ৪০টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে ২৬টি সরবরাহ করবে কাতারএনার্জি, যার অর্থ দাঁড়ায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের চুক্তির ৬৫ শতাংশ গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অন্যান্য সরবরাহকারীর কাছ থেকে গ্যাস পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আপাতত আগামী মার্চ পর্যন্ত আমদানি সূচি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুরো বছরের আমদানি পরিকল্পনা চূড়ান্ত না করে আগামী মার্চ পর্যন্ত সরবরাহ সূচি তৈরির নির্দেশ দিয়েছে পেট্রোবাংলাকে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকেই আপাতত এই নমনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার ফলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে বাড়তি কার্গো সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের, যার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১০৩টি কার্গো পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে মোট ১২৮টি চুক্তিবদ্ধ কার্গোর মধ্যে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাত্র ৭১টির সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

কাতারএনার্জির সহযোগী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি ট্রেডিং এলএলসি ২৪টি কার্গোর বিপরীতে ১৮টি সরবরাহের প্রত্যাশা দিয়েছে এবং দুই প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে কাতার থেকে মোট ৪৪টি কার্গো আসার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং বা ওকিউটি ৩২টি কার্গো সরবরাহের কথা থাকলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত একটি কার্গোরও সরবরাহ নিশ্চিত করেনি। উল্টো তারা ১৬টি কার্গো দেওয়ার প্রস্তাবের পাশাপাশি বিদ্যমান ব্রেন্ট সূচকভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের পরিবর্তে জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যে প্রস্তাব পেট্রোবাংলা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে চুক্তি অনুযায়ী শর্ত অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।

এছাড়া, গানভর ইউএসএ ২০২৭ সালে ছয়টি এবং ফ্রান্সের টোটালএনার্জিস ১২টি কার্গো সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের এক্সেলেরেট গ্যাসের নির্ধারিত ১৪টি কার্গোর মধ্যে নয়টির সরবরাহ ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সরবরাহের ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হওয়ার কারণে বাংলাদেশকে বাধ্য হয়ে স্পট মার্কেট থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে, যা সরকারের আর্থিক ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই কেবল এলএনজি খাতে ভর্তুকি বাবদ ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, আর সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে নিজেদের আমদানি পরিকল্পনা নতুন করে পুনর্নির্ধারণ করবে পেট্রোবাংলা।

মন্তব্য করুন