অনলাইন ডেস্ক:
আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আজ রাত ১১টায় মাঠে নামছে মেসির আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে অনুশীলনে মেসি, রদ্রিগো দি পলদেরও দেখা গেছে ফুরফুরে মেজাজে। যদিও ইউরোপীয় এ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পুরোপুরি ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জে নামছে স্কালোনির এই দল। যাদের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে আসলে খেলার রেকর্ড নেই আর্জেন্টিনার। সর্বশেষ ম্যাচ ১৯৯০ সালে, এর আগেরটি ১৯৮০-তে। দুটিই ছিল প্রীতি ম্যাচ, দুটিতেই খেলেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। প্রথমটিতে ৫-১ গোলের জয়ে ম্যারাডোনা করেছিলেন হ্যাটট্রিক, পরেরটি ড্র হয় ১-১ গোলে। দুটি ম্যাচই হয়েছিল ভিয়েনায়। ম্যারাডোনার উত্তরসূরি মেসি বিশ্বকাপটা শুরু করেছেন হ্যাটট্রিক দিয়ে, এ ম্যাচে আবারও কি ডিয়েগো ম্যারাডোনার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেবেন তিনি? মেসি নিজের মতো করে জ্বললে অবশ্য প্রতিপক্ষের আর কোনো সুযোগই থাকে না আসলে। অস্ট্রিয়া সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রালফ রাংনিকের অধীন হাই প্রেসিং ফুটবলের কারণে। গত ইউরোতে আলো ছড়িয়েছে এই অস্ট্রিয়া। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা উঠেছিল শেষ ষোলোতে। এ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গ্রুপেও র্যাংকিং অনুযায়ী দ্বিতীয় সেরা দল তারা। প্রথম ম্যাচে জর্দানকে ৩-১ গোলে হারিয়েই গতকাল ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডালাসে পা রেখেছে দলটি। ডালাস অবশ্য গতকাল থেকেই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের দখলে। কানসাস মাতিয়ে গতকাল মেসিদের এ শহরে পৌঁছার আগেই তারা আকাশি-সাদায় ছেয়ে দিয়েছে এখানকার পথঘাট। কানসাসের মতোই ডালাসের দেয়ালেও আঁকা হয়েছে মেসির ম্যুরাল। ‘কন টোডা লা ফুয়েরজা’ মেসির ছবির পাশে স্প্যানিশ লেখাটার মানে ‘সর্বশক্তি দিয়ে লড়ো।’ আর্জেন্টাইনদের আকুতিটা তাতে স্পষ্ট। জাতীয় দলের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স চায় তারা, যা নিয়ে তারা গর্ব করতে পারে। দলকে অকুণ্ঠ সমর্থন জুগিয়ে যেতেও কোনো ক্লান্তি নেই তাদের। ‘ইনচাস আর্জেন্টিনোস’ আর ‘লা বান্দা দে আর্জেন্টিনা’-সমর্থকদের এই দুটি গ্রুপ জাতীয় দলের সঙ্গে দেশ থেকে দেশ সফর করে। ডালাসেও গতকাল নেচে-গেয়ে মেসিদের স্বাগত জানিয়েছে তারা। কানসাস সিটিতেই শেষ দিনের অনুশীলনের পর ডালাসের বিমান ধরেছে আর্জেন্টিনা দল। গনসালো মনতিয়েল চোট কাটিয়ে এদিন পুরোদমে অনুশীলনে ফিরলেও আজ প্রথম একাদশে তাঁর থাকার সম্ভাবনা কমই। নাহুয়েল মলিনা নেবেন সেই জায়গাটা। একাদশে আরো দুটি পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। থিয়াগো আলমাদার জায়গায় নিকোলাস গনসালেসের শুরু করার সম্ভাবনা বেশি। আর ফরোয়ার্ডে মেসির সঙ্গে লাউতারো মার্তিনেসের বদলে দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেসকে। নিকোলাস তাগলিয়াফিকো এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেসও মাঠে নামার জন্য তৈরি। স্কালোনি বদলি হিসেবেও তাঁদের সেই সুযোগটা দিতে পারেন। তবে যেখানে যে-ই খেলুন, এ ম্যাচেও সবার চোখ থাকবে এক মেসির দিকেই। রালফ রাংনিক তাঁর জন্য কী পরিকল্পনা সাজান, সেটিই দেখার। অস্ট্রিয়া দলেও মার্সেল সাবিটজার, মার্কো আরনাতোভিচ এবং ডেভিড আলাবার মতো অভিজ্ঞ পারফরমাররা আছেন। এই ম্যাচে তাই লড়াই হবে। আর্জেন্টিনা জিতলে নক আউট রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাবে, অস্ট্রিয়ানদেরও সেই একই লক্ষ্য। লক্ষ্যপূরণে তাদের আগে থামাতে হবে মেসিকে।











