আদ্ দ্বীন হাসপাতাল কার্যত অচল, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিলের কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর মগবাজারের আদ্ দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যেই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

 

সোমবার (১৬ জুন) সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বিভাগে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ। চিকিৎসা নিতে এসে অনেক রোগী ও তাদের স্বজন ভোগান্তিতে পড়েছেন। লাইসেন্স বাতিলের পর কর্মচারীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। তারা সরকারের প্রতি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

গত বুধবার (১১ জুন) ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্ দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে নতুন রোগী ভর্তি না করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর কিংবা চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

ঘটনার সূত্রপাত ঈদুল আজহার আগের দিন মঙ্গলবার (২৭ মে)। ওই দিন ভোরে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়।

 

তদন্তে উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট কক্ষে দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের অভাবে অক্সিজেনের ঘাটতি ও কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রায় ৯০০ বর্গফুটের কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা সাড়া দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা, দায়িত্বরত চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় তদারকির ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

এদিকে সোমবার (১৬ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। রিটে শুধু লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নয়, যে আইনের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেই ১৯৮২ সালের মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্সের বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

 

আইনজীবী ইউনূছ আলী আকন্দের দাবি, “যে আইনের অধীনে লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, সেটি সামরিক আমলে প্রণীত এবং এ আইনে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সুস্পষ্ট বিধান নেই।” তার ভাষায়, “আদ্ দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জনস্বার্থের পরিপন্থী, কারণ বিপুলসংখ্যক মানুষ এই প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।”

 

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, এই রিটের সঙ্গে আদ্ দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি লাইসেন্স বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবে। অন্যদিকে হাসপাতালের ভবিষ্যৎ এবং লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা নিয়ে এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর সংশ্লিষ্ট সবার।