নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তার মতে, একই ধরনের আইনি ব্যাখ্যায় ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সমতার নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর না হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিধান থাকলেও এর প্রয়োগে সমতা বজায় রাখা হয়নি কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তিনি আরও বলেন, “আরপিও অনুযায়ী সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ না হলে কেউ নির্বাচন করতে পারেন না। একইভাবে বিদেশি সহায়তাপুষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিধান কি সবার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।”
মনিরা শারমিনের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একই ধরনের আইনি অবস্থানে থাকা কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হলেও কারও ক্ষেত্রে বাতিল হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “বিধি-বিধান সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।”
তিনি অতীত নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, আগে ঋণখেলাপি বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছিল। এবারও কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেখা যাচ্ছে, যা কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে।
এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের তথ্য বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। সেখানে দেখা যায়, নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১০ জনের ঋণ ও দায়দেনা রয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত এবং একজন জামায়াতে ইসলামীর।
তিনি জানান, এই ১০ জনের মধ্যে চারজনের ঋণের পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি আগের সংসদের তুলনায় এবার ঋণগ্রহীতার হার কিছুটা কমেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সংরক্ষিত আসনের এমপিদের হলফনামা যাচাই-বাছাই, আয়কর বিবরণী এবং তথ্য গোপনের বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সুজনের মতে, এসব ক্ষেত্রে কমিশনের আরও কঠোর ও সমানভাবে প্রয়োগযোগ্য নজরদারি থাকা প্রয়োজন।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো সমতা ও স্বচ্ছতা। সেখানে যদি একেকজনের জন্য একেক ধরনের মানদণ্ড প্রয়োগ হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যায়।”











