অনলাইন ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে দৌরাত্ম বেড়ে চলেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের। বড় অঙ্কের অর্থের আশায় তারকা ক্রিকেটারদেরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অল্প সময়েই অবসরের ঘোষণা দিতে দেখা যায়। ফলে জাতীয় দলের সঙ্গে পরোক্ষ প্রতিযোগিতা চলছে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোর। তারই জের ধরে নিজেদের ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বেশি পাওয়ার আশায় বড় অঙ্কের প্রস্তাব নিয়ে হাজির ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ট্রাভিস হেডের মতো ক্রিকেটারদের তারা বড় বেতনে জাতীয় দলমুখী করতে চায়। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ জানিয়েছে, কামিন্সকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে সিএ। এই চুক্তি কার্যকর হলে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের বার্ষিক আয় প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলারে (৪৯ কোটি টাকা) পৌঁছাবে। সামনে অজিদের ব্যস্ত মৌসুম আসছে, যেখানে তাদের ১২ মাসে ২১টি টেস্ট খেলতে হতে পারে। একইভাবে জাতীয় দলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে ট্রাভিস হেডেরও। গত বছর এই দুই অজি তারকাকে জাতীয় দল ছেড়ে পুরোপুরি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে যোগ দিতে ১০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অজি ক্রিকেট বোর্ড প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে কামিন্সের বার্ষিক আয় প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার বাড়বে এবং তিন বছরে তিনি প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার পাবেন। সম্প্রতি প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ক্রীড়াবিদের আয়ের তালিকায় কামিন্সের অবস্থান ১৫তম। গত বছর বাণিজ্যিক চুক্তি ও আইপিএল থেকে তার মোট আয় ছিল প্রায় ৯-১০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া হেড গত বছর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে প্রায় ২.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিলেন। আগামী ১২ মাসে তিনিও অধিনায়কের মতো বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক পেতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের তিন নম্বর ব্যাটার মার্নাস লাবুশেনকেও তিন বছরের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে সিএ। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মে না থাকলেও অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন বহুমাত্রিক ক্রিকেটার হিসেবে এখনও অত্যন্ত মূল্যবান বিবেচিত হচ্ছেন। গত বছর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে গ্রিনের আয় ছিল ১.৫ মিলিয়ন ডলারের কম। বর্তমান সমঝোতা স্মারকের অধীনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ ক্রিকেটারদের গড় বার্ষিক রিটেইনার ১ মিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি, যা ম্যাচ ফি ও অন্যান্য সুবিধার বাইরে। ক্রিকেটারদের গোপনে দেওয়া এসব প্রস্তাবের বিষয়ে তিনটি সূত্রের বরাতে অজি গণমাধ্যম বলছে, কামিন্সের নতুন চুক্তিতে আগের তুলনায় আরও বেশি অর্থের নিশ্চয়তা থাকবে, তিনি যত ম্যাচই খেলুন না কেন। কেন্দ্রীয় চুক্তির সব ক্রিকেটারই রিটেইনারের পাশাপাশি ম্যাচ ফি ও পারফরম্যান্স বোনাস পান। ২০২৯ সালে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় কামিন্সের বয়স হবে ৩৬ বছর। পিঠের চোটের কারণে তিনি সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজের মাত্র একটি টেস্ট খেলতে পেরেছিলেন। ক্রিকেটারদের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন চুক্তির বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বা কামিন্সের ম্যানেজমেন্ট। তবে সংস্থাটির ক্রিকেট প্রধান জেমস অলসোপ চুক্তি কাঠামোর অগ্রাধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা দীর্ঘ সময় ধরে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ফরম্যাটে পারফর্ম করেছে। বর্তমান সীমাবদ্ধতার মধ্যে তাদের জন্য আপনি খুব বেশি কিছু করতে পারবেন না। তাই ভালো পারিশ্রমিক ও আর্থিক নিশ্চয়তা এখন বড় অগ্রাধিকার। বাজারের চাপ এখন মূলত সেই খেলোয়াড়দের ওপর, যারা সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক মূল্য তৈরি করে। প্যাট, জশ (হ্যাজলউড) ও ট্রাভিসের মতো বহু ফরম্যাটে খেলা ক্রিকেটারদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাই তাদের অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাখা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিশ্বের সেরা হাই-পারফরম্যান্স সিস্টেম ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতা নিয়ে আমরা গর্বিত। তাই ক্রিকেটারদের বহু ফরম্যাটে খেলতে এবং দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে উৎসাহিত করতে হবে। এই মুহূর্তে বাজারের সবচেয়ে বেশি চাপ শীর্ষ খেলোয়াড়দের ওপর। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের সবাই একমত যে, আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের উপযুক্ত পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে হবে। বিগ ব্যাশে আমাদের সেরা ক্রিকেটাররা অন্যান্য টি-টোয়েন্টি লিগের তুলনায় অনেক কম পারিশ্রমিক পান। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’











