যুক্তরাষ্ট্রের পোপের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে উদ্যোগী রুবিও

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার প্রথম মার্কিন পোপ লিও চতুর্দশের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওয়াশিংটন-ভ্যাটিকান উত্তেজনা কমানো ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়াই এ বৈঠকের লক্ষ্য।

পোপ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে এর সমালোচনা করার পর, ট্রাম্পের কড়া মন্তব্যের জেরে রুবিও রোমে পৌঁছান।

 

বিশ্বের ১৪০ কোটির বেশি ক্যাথলিকের প্রধান লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের এ মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

 

রোম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

 

ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্র সচিব পিয়েত্রো পারোলিনের সঙ্গে রুবিওর আলোচনা হওয়ার কথা।

 

হলি সিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রায়ান বার্চ বলেন, এটি সম্ভবত একটি ‘খোলামেলা আলোচনা’ হবে।

 

পারোলিন বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকের উদ্যোগ ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেই এসেছে এবং ভ্যাটিকান তাদের কথা শুনবে।

 

-আলোচনার অনেক বিষয়-

 

এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৮ মে, প্রথম মার্কিন পোপ হিসেবে লিও’র নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসন সন্তোষ প্রকাশ করেছিল।

 

কিন্তু এরপর থেকেই হলি সিটির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে।

 

গত মাসে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ ও ‘পররাষ্ট্রনীতিতে খারাপ’ বলে মন্তব্য করেন।

 

এর আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে শান্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন পোপ।

 

ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের হুমকিকে তিনি ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন।

 

রুবিও বলেন, এই সফর আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, তবে এর মধ্যে কিছু ঘটনা ঘটেছে।

 

তিনি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ভ্যাটিকানের সঙ্গে আলোচনার অনেক বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থানে মিল রয়েছে।

 

বুধবার এক অনুষ্ঠানে পারোলিন বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনার সব বিষয়ই আলোচনায় আসবে। পাশাপাশি ল্যাটিন আমেরিকা, কিউবা ও লেবাননের মতো আন্তর্জাতিক বিষয়ও আলোচনায় থাকবে।

 

কিউবা কূটনীতিতে ভ্যাটিকানের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। আর কিউবান-আমেরিকান রুবিও কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

 

লিও পেরুতে দুই দশক মিশনারি হিসেবে কাজ করেছেন এবং দেশটির নাগরিকত্বও পেয়েছেন, ফলে ল্যাটিন আমেরিকা সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে।

 

-পোপের অবস্থান-

 

উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চললেও, ট্রাম্প সোমবার আবারও পোপের সমালোচনা করেন।

 

তিনি দাবি করেন, পোপ মনে করেন যে ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা ‘গ্রহণযোগ্য’।

 

ট্রাম্প বলেন, এতে অনেক ক্যাথলিক ও মানুষের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 

মঙ্গলবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোপ বলেন, ক্যাথলিক চার্চের দায়িত্ব হলো শান্তি ও গসপেল প্রচার করা।

 

তিনি আরও বলেন, ‘গসপেল প্রচারের জন্য কেউ যদি আমার সমালোচনা করতে চান, তবে তা যেন তিনি সত্যের ভিত্তিতে করেন।’

 

পোপ আরও বলেন, চার্চ বহু বছর ধরেই সব ধরণের পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং তিনি ঈশ্বরের বাণীর মূল্য তুলে ধরতেই কথা বলতে চান।

 

পারোলিন বলেন, পোপকে আক্রমণ করা কিছুটা অদ্ভুত মনে হয়। ‘পোপ কেবল তার দায়িত্বই পালন করছেন।’

 

লিওর মার্কিন নাগরিকত্বের কারণে তার বক্তব্য ওয়াশিংটনে আগের পোপদের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পায়।

 

তিনি অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের সমালোচনাও করেছেন।

 

তবে মূলত পোপের যুদ্ধবিরোধী অবস্থানই ট্রাম্পের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

গত বছর লিও নির্বাচিত হওয়ার কয়েকদিন পরই ভ্যাটিকানে রুবিও ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল।