এনইইটি ইস্যুতে উত্তাল ভারত: ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভে বিজেপি ও কংগ্রেস

অনলাইন ডেস্ক:

কথিত এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে ভারতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে কংগ্রেস ও ক্ষমতাসীন বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

 

ছাত্রদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি সংগঠন। ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এটি এখন দেশব্যাপী তরুণদের একটি আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। সংগঠনটির প্রধান দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।

 

সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংকট সমাধানে আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। তারা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে অথবা নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

 

বিজেপির পাল্টা বিক্ষোভ

 

কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে কংগ্রেসের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে বিজেপি।

 

বিজেপির দাবি, রাহুল গান্ধীর আচরণ বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

 

দলের নেতা নীতিন নবীন বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থেকেও রাহুল গান্ধী দায়িত্বশীল আচরণ করেননি। তার আচরণ সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়।”

 

বিজেপি সংসদ সদস্য সম্বিত পাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। সেখানে এ ধরনের বিক্ষোভ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

 

তার ভাষায়, “যদি কোনো অসামাজিক ব্যক্তি সেই ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করত, তাহলে কী হতো? প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে এমন ঝুঁকি তৈরি করা কি গণতান্ত্রিক আচরণ?”

 

কংগ্রেসের দেশব্যাপী প্রতিবাদ

 

অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা এবং দলের অন্যান্য নেতাকে আটক করার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছে কংগ্রেস।

 

একই সঙ্গে যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগেরও নিন্দা জানিয়েছে দলটি।

 

তিরুবনন্তপুরম, গুয়াহাটি, জবলপুর ও ভুবনেশ্বরসহ বিভিন্ন শহরে কংগ্রেস নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের অভিযোগ তোলেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কে সি ভেনুগোপাল ও পবন খেরাসহ দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। কেরালার বিরোধীদলীয় নেতা ভি ডি সতীশন এবং কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 

যেভাবে শুরু হয় আন্দোলন

 

সোমবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হাজারো শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

 

পরে তারা সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্য আহত হন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের লাঠিপেটা ও শিক্ষার্থীদের টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

 

আন্দোলন আরও জোরালো হয় সপ্তাহান্তে, যখন আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে তিন সপ্তাহের অনশন কর্মসূচির মধ্যে পুলিশ জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যোগ দিতে শুরু করেন।

 

সূত্র: এনডি টিভি