কৃষিতে সর্বোচ্চ বাজেট, ফল হবে বাংলাদেশের নতুন রফতানি শক্তি: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের কৃষি খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশে ফল উৎপাদনে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে আগামী দিনে ফল বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী রফতানি পণ্যে পরিণত হবে।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতে বাজেট কমেছে বলে যে আলোচনা হচ্ছে, বাস্তবে চিত্রটি ভিন্ন। গত অর্থবছরের তুলনায় কৃষি বাজেট ১০.৩৫ শতাংশ বেড়েছে। উন্নয়ন ও প্রণোদনা খাতের বরাদ্দও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর ভাষায়, “যারা বলছেন কৃষিতে বাজেট কমেছে, তারা সঠিক হিসাব করেননি। অতীতের তুলনায় এবার কৃষিতে বৃহত্তম বাজেট দেওয়া হয়েছে।”

 

ফল উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ফল মেলা দেশে এক ধরনের কৃষি বিপ্লবের অংশ হয়ে উঠেছে। বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফলের পাশাপাশি একসময় আমদানিনির্ভর বিদেশি ফলও এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। এতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমছে এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

 

ড্রাগন ফলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেও এ ফল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। এখন দেশের কৃষকেরা এমন মানের ড্রাগন ফল উৎপাদন করছেন, যা বিদেশি ফলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। “আগে আমরা ড্রাগন ফল আমদানি করতাম, এখন রফতানির কথা ভাবছি,” বলেন তিনি।

 

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে ইতোমধ্যে আম, আনারস ও কাঁঠাল রফতানি শুরু হয়েছে। চলতি বছরে কাঁঠাল রফতানি আরও বাড়বে বলে সরকারের প্রত্যাশা। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

 

ফলভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পের প্রসার নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কাঁঠাল দিয়ে সিঙ্গারা, সমুচা, কাবাব, পিঠাসহ নানা ধরনের পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের কয়েকটি দেশ এসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে আগ্রহ দেখিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও এ খাতে বিনিয়োগ করছেন।

 

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু দেশের মানুষের ফলের চাহিদা পূরণ নয়, উদ্বৃত্ত উৎপাদন বিদেশে রফতানি করে নতুন বাজার সৃষ্টি করা। এ লক্ষ্যে কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ক্রেতা ও রফতানিকারকদের মধ্যে সংযোগ তৈরিতেও কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

 

“করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।