জীবনের দুঃখ এবং কষ্টকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন শবনম ফারিয়া

অনলাইন ডেস্ক:

অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া তার জীবনের একাধিক দুঃখজনক এবং কষ্টকর অভিজ্ঞতা ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। সম্প্রতি, তিনি তার জীবনের এমন কিছু ঘটনা তুলে ধরেন, যেখানে উত্তেজনা ও আনন্দের পর তার আশা ভঙ্গ হয়েছে। তার পোস্টে উঠে এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দুঃখের মুহূর্ত এবং হারানো আশা।

ফারিয়া লিখেন, “কয়েক বছর আগে আমি গভীর প্রেমে পড়েছিলাম। মনে হয়েছিল, জীবনের সব কঠিন মুহূর্ত আমাকে তার কাছে নিয়ে আসার জন্যই ছিল। এক বছর সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু হঠাৎ একদিন সে হারিয়ে গেল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পেল না। এক মাস পর জানতে পারলাম সে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করেছে। আর কখনও ফিরে আসবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার প্রথম সিনেমা ‘দেবী’ মুক্তির আগেও এমনই ঘটেছিল। পরিবারে অনেক সংগ্রামের পর অবশেষে একটি পেশা বেছে নিয়েছিলাম। বাবা-মাকে গর্বিত করার অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু সিনেমা মুক্তির ছয়-সাত মাস আগেই বাবা মারা গেলেন। তিনি কখনোই আমার কাজটি দেখতে পারলেন না।”

ফারিয়া আরও জানান, “কিছুদিন আগে আমি একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। এটি ছিল আমার প্রথম আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজ করার সুযোগ। কিন্তু ঠিক চার দিন আগে, যখন কাগজপত্র জমা দিতে যাওয়ার কথা ছিল, তখন কোভিড-19 এর কারণে দূতাবাস বন্ধ হয়ে যায় এবং ফ্লাইটও বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সেই প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়।”

তার জীবনের আরেকটি দুঃখের মুহূর্তের কথা শেয়ার করে তিনি বলেন, “একবার অনেক দিন আগে একটি কনসার্টে অংশ নেবার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এক মাস আগে পোশাক ঠিক করে ফেলেছিলাম এবং আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিকিটও নিশ্চিত করেছিলাম। কিন্তু সেই দিন যখন এলো, স্টেডিয়ামের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো, ভেতরে প্রবেশ করতে পারলাম না।”

সবশেষে, ফারিয়া তার জীবনের শেষ অনুভূতি প্রকাশ করেন, “জীবনে যখনই কিছু নিয়ে সত্যিকার অর্থে উত্তেজিত হই, তখনই সেটা ফসকে যায়। মনে হয়, জীবনের জন্য যেন ভিন্ন কোনো চিত্রনাট্য লেখা আছে। তবে আমি নিজেকে সান্ত্বনা দিই এই ভেবে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী। হয়তো তিনি আমাকে এমন কিছু থেকে রক্ষা করছেন যা আমি দেখতে পারছি না। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কিভাবে উত্তেজিত হওয়া বন্ধ করব? কারণ উত্তেজনার পরের পতনটি যেন দ্বিগুণ কষ্টদায়ক।”

ফারিয়ার পোস্ট তার ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং তার জীবনযাত্রার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।