নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন অবহেলিত থেকে ধীরে ধীরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর হিসেবে নিজ অবস্থান দৃঢ় করছে মোংলা বন্দর। আধুনিকায়ন, ড্রেজিং, ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বন্দরটির সক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়েছে। এক সময়ের ‘মৃতপ্রায়’ এই বন্দর এখন হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প ও দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম কৌশল।
চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের অতিরিক্ত চাপ, দীর্ঘসূত্রিতা ও জাহাজজটের সমাধান হিসেবে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, জাইকা ও সরকারি অর্থায়নে ক্রেন স্থাপন, ইয়ার্ড সম্প্রসারণ, এবং নৌপথ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় রাজধানী ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে মোংলার যোগাযোগ সহজ হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়িক গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, বড় জাহাজ ভিড়তে না পারা ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।
২০০২ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত নাব্য সংকটের কারণে মোংলা কার্যত অচল ছিল। কিন্তু ২০২০ সালে বহির্নোঙর ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ চলাচল শুরু হয়। এখন নতুন প্রকল্পে পশুর চ্যানেলের ৪৫ কিমি ড্রেজিং করে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ চলাচলের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৫৩৮ কোটি টাকা, যার বাস্তবায়নে রয়েছে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধান। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নৌচ্যানেলের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই বন্দরের প্রাণরেখা, আর তা চালু রাখতে ইতোমধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে চট্টগ্রামের চাপ কমবে, পোর্ট ডেমারেজ ও খরচ হ্রাস পাবে, ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে।” তিনি জানান, আমদানিকৃত সব গাড়ি মোংলা দিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার জানান, বন্দরে দ্রুত মাল খালাস হয় এবং পোর্ট ডেমারেজ চট্টগ্রামের চেয়ে কম। তাই ব্যবসায়ীদের আরও উদ্বুদ্ধ করতে সচেষ্ট হচ্ছে এনবিআর।
বিশ্লেষকদের মতে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।







