চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি আরও ১০১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

হামের সংক্রমণের মধ্যেই দেশে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। মশাবাহিত এ রোগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যদিও এই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা বর্ষা মৌসুমে নতুন করে সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগে। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪ জন করে, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ১০ জন, রাজশাহী বিভাগে ছয়জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ১২৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৩৩৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৪ হাজার ৬০০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ নারী। এ বছর ডেঙ্গুতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

ডেঙ্গুর পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বর্ষা মৌসুমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কারণ, বৃষ্টির পানি জমে থাকলে এডিস মশার প্রজনন বাড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে অতীতের ডেঙ্গু পরিস্থিতিও ছিল উদ্বেগজনক। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। আর ২০২৫ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১, যেখানে মারা যান ৪১৩ জন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি ও সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই। বাসাবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যাতে পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।