নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীদের টানে চলন্ত অটোরিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ছিনতাইয়ে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং মূলহোতাদের খুঁজে বের করতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদের আদালত শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মো. পনি ওরফে প্যারা পনি ওরফে পনি গাজী, সেড্রিক জুলিয়ান ও রাকিব হোসেন। অন্য একটি আদালত-সংক্রান্ত তথ্যে দ্বিতীয় আসামির নাম সেন্টু জুলিয়ান এবং আসামিদের বয়সও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আদালতে রিমান্ডের মূল বিষয় ছিল তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। চোখের চিকিৎসার জন্য গত ২৯ আগস্ট ভোরে স্বামী আবদুল মতিনকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশায় করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তিনি।
ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাদের অটোরিকশাটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের কাছে পৌঁছায়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয়।
হঠাৎ টান দেওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়েন রনজিলা। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রনজিলার স্বামী আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শুরুর পর রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-২। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা স্মার্টফোন, নগদ টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি ইয়ামাহা আর১৫ মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
সোমবার আদালতে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তারা দাবি করেন, গ্রেপ্তার তিনজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। আইনজীবীরা বলেন, “আমরা চাই সঠিক অপরাধীর বিচার হোক। নিরাপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়।”
তাদের আরও দাবি, যে মোটরসাইকেল শনাক্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটির সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের মিল নেই। ঘটনাটিকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও শুনানিতে দাবি করেন তারা।
তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত প্রত্যেক আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত থেকে বের হয়ে আসামি পনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। সত্যের জয় হবে।” র্যাবের অভিযান নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন।
এখন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ছিনতাইয়ের সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিল এবং ঘটনার পেছনে কোনো মূলহোতা রয়েছে কি না, তা বের করার চেষ্টা করবে তদন্তকারী সংস্থা। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ ও জব্দ করা মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আলামতও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।











