অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়জয়কারকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ‘ব্লু সুনামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেওয়ার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও হানা দিয়েছে দলটি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে এই নির্বাচনী হাওয়ার মাঝে আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ঘটেছে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। নির্বাচনের দুই মাস আগে থেকেই সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ রেখেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এরিক আর্মস্ট্রং।
অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা এরিক আর্মস্ট্রং আইওয়া অঙ্গরাজ্যের হাউস ডিস্ট্রিক্ট ২০ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচার স্থগিতের ঘোষণা দেন। সে সময় এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছিলেন, শারীরিক সুস্থতা ও আরোগ্য লাভকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতেই তাকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
আর্মস্ট্রং তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, একটি সফল নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রচুর শারীরিক ও মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়। কিন্তু সম্প্রতি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায় তাকে সেই বিষয়গুলোর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিতে হচ্ছে। তবে ঠিক কী ধরনের শারীরিক জটিলতায় তিনি ভুগছিলেন, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করেননি তিনি।
প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল বলে জানান আর্মস্ট্রং। তিনি বলেন, নিজের স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে।
প্রচারণা বন্ধ থাকলেও নির্বাচনে তার জয় আটকানো যায়নি। আইওয়ার বার্লিংটনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আর্মস্ট্রং রিপাবলিকান প্রার্থী কিথ জোনসকে পরাজিত করে প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকে থাকা নির্বাচনী এলাকায় তার এই জয়কে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
গত বুধবার সকালে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্মস্ট্রং বলেন, আইওয়ার ২০ নম্বর নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তিনি নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
তবে আইওয়া অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে তিনি সশরীরে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি দায়িত্ব নিতে না পারলে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন একই দলের জশ তুরেক। তুরেক রিপাবলিকান নেতা অ্যাশলি হিনসনকে পরাজিত করে অঙ্গরাজ্যটির দুটি সিনেট আসনের একটিতে জয় পেয়েছেন।
গত মঙ্গলবারের দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই বড় জয়ের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা ও কানসাসের মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত অঙ্গরাজ্যগুলো থেকেও ডেমোক্র্যাটরা সিনেট আসনে জয় তুলে নিয়েছেন।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিস্তৃত তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে।
সিনেটেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ট্রাম্পের ক্ষমতার শেষ দুই বছর আরও কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল প্রভাব আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাসহ তার বিভিন্ন রাজনৈতিক উদ্যোগ এখন বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে।
ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও রিপাবলিকান নেতৃত্বকে এখন নতুন করে রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।











