রংপুর প্রতিনিধি:
দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার রংপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নগরীর স্টেশন রোড এলাকার ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে গোটা নগরীতে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। অন্যদিকে, তিনি আকস্মিকভাবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে পারেন—এমন গুঞ্জনে রাতভর হাসপাতালের ভেতর চলেছে ব্যাপক ধোয়ামোছা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এতে করে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রোগীরা, মিলছে বাড়তি সেবাও।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে ডগ স্কোয়াড। মঙ্গলবার দুপুরে ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নেতৃত্বে এসআরবি ও পুলিশের যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহড়ায় মন্দিরের অবস্থান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও মতবিনিময় সভার নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া মন্দির এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি।
রাধাগোবিন্দ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার রংপুরে আসছেন। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মুখিয়ে আছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মন্দির কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সাধন চন্দ্র জানান, ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি মন্দির।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রংপুর নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। মঙ্গলবার নগরীর কাছারী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে those স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় বুলডোজার দিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, নির্ধারিত কর্মসূচিতে শুধু মন্দির পরিদর্শন ও মতবিনিময়ের কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী আকস্মিকভাবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্য কোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার দুপুরে সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ভেতরের সব আগাছা পরিষ্কার করা হচ্ছে। নামিয়ে ফেলা হয়েছে সামনের বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মানিক জানান, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড ঘুরে টয়লেটসহ পুরো চত্বর ধোয়ামোছা করা হয়েছে। সারাদিন অন্যান্য কাজও অব্যাহত ছিল। আকস্মিক এই তৎপরতায় বদলে গেছে হাসপাতালের চিরচেনা চিত্র। রোগীদের নতুন বেড কভার দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে ওষুধ। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতিও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো।
মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মমতাজ বেগম বলেন, হঠাৎ করেই আজ সকাল থেকে চিকিৎসক, নার্স ও আয়ারা বারবার আমার কাছে আসছেন। শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ওষুধ দিচ্ছেন। বিষয়টি আমাকে অবাক করেছে। পরে জানতে পারলাম, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে হাসপাতালে আসতে পারেন। এজন্য আমাদের এত কদর করা হচ্ছে। একই অনুভূতির কথা জানিয়ে আরেক প্রবীণ রোগী সখিনা বেওয়া বলেন, সকাল থেকে সবাই আমাদের খোঁজ নিচ্ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক, নার্স, আয়া ও বিভাগীয় প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ ওয়ার্ডে অবস্থান করে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু হাসপাতালই নয়, প্রধানমন্ত্রী আকস্মিক সফর করতে পারেন—এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।











