ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

প্রবাসী আয়ের জোয়ারে অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস

প্রকাশিত: 4 August 2025, 9:21 pm
ফন্ট:

অনলাইন ডেস্ক:

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে এসেছে প্রায় ২৪৮ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। গত রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আয় গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষেও প্রবাসী আয়ের দিক থেকে রেকর্ড গড়েছে দেশ। ওই অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এটি দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সপ্রাপ্তির রেকর্ড।

এই প্রবৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ০ বিলিয়ন ডলারে। যদিও আইএমএফের বিপিএম ৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে তা ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাবাজারে চাপ কমেছে, স্থিতিশীলতা এসেছে আমদানিজনিত ব্যয়ের দিকেও। বর্তমানে ব্যাংক ও বাণিজ্যিক খাতে ডলারের দাম রয়েছে ১২৩ টাকার মধ্যে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক ইতিবাচক কারণ। সরকার হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, পাশাপাশি বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনাও দিয়েছে। এসব পদক্ষেপ প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করেছে। ব্যাংকগুলোর সেবার মানোন্নয়নও এই ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, যেসব ব্যাংকের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত এবং যেগুলো প্রবাসী সেবায় দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত, তাদের আয় বেড়েছে। জুলাই মাসে সর্বাধিক রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে-প্রায় ৫৩ কোটি ডলার। এরপর রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক (২৪ কোটি ডলার), কৃষি ব্যাংক (২৩ কোটি), ব্র্যাক ব্যাংক (১৭ কোটি), জনতা ব্যাংক (১৩ কোটি), ট্রাস্ট ব্যাংক (১২ কোটি) এবং ঢাকা ব্যাংক (১০ কোটি)।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে যেমন সহায়ক, তেমনি বৈদেশিক বিনিয়োগের আস্থা ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে দেশের মুদ্রানীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হচ্ছে এবং আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপে কিছুটা হলেও প্রশমিত হচ্ছে সাধারণ জীবনযাত্রা।
সামগ্রিকভাবে, প্রবাসীদের অব্যাহত রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক খাতকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের শেষেও রেমিট্যান্স নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট মহল।

মন্তব্য করুন