নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের সব রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মির্জাপুরের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল কটন মিল দ্রুত চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে কারখানাটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মির্জাপুরে বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় এসব প্রতিষ্ঠানকে আরও আধুনিকায়ন করা হবে। টাঙ্গাইল কটন মিলও দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কারখানা পরিদর্শনকালে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শরীফুল আলম। তিনি জানান, বর্তমান সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা শিল্পকারখানা সঠিকভাবে চালাতে পারেন।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর তারা দায়িত্ব পেয়েছেন। তার অভিযোগ, বিগত সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে ভুল ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে এবং এ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় যেতে কিছুটা সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
এদিকে তাঁতশিল্পের উন্নয়নেও নতুন উদ্যোগের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁত বোর্ডের উদ্যোগে টাঙ্গাইলে একটি বেসিক সেন্টার ও ফ্যাশন ডিজাইনার ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করা হবে। পাশাপাশি তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্তদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) সচিব ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) প্রকল্প পরিচালক কাজী ফিরোজ হোসাইন টাঙ্গাইল কটন মিলের ইতিহাস তুলে ধরেন।
তিনি জানান, স্বাধীনতার আগে প্রায় ২৫ একর জমির ওপর কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির ২৭ নম্বর আদেশে এটি জাতীয়করণ করা হয়। এরপর ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বিটিএমসির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
পরে ভাড়াসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে কারখানাটি চালু রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে ১৯৯৮ সাল থেকে টাঙ্গাইল কটন মিল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সেই হিসাবে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা এই কারখানাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মির্জাপুরের এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনের সময় টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান, টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ, বিটিএমসির সচিব ও পিপিপির প্রকল্প পরিচালক কাজী ফিরোজ হোসাইন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ, সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আরিফ, সহসভাপতি আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাদের শিকদার, উপজেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেন, গোড়াই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জুয়েল এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুর রহমান স্বপনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।











