মোঃ সাকিক হারুন ভূঁইয়া:
দেশে চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও অসাধু সিন্ডিকেটের সক্রিয়তার কারণে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
প্রতিযোগিতা কমিশনের তথ্যানুযায়ী এ পর্যন্ত সাধারণ চাল ও কর্পোরেট চালে ২০টি, ভোজ্য তেলে ৯টি, ডিম নিয়ে কারসাজি করায় ১৭টি, মুরগী সিন্ডিকেট ৯টি, পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একটিসহ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ১২০টি মামলা করেছে। কিন্তু তারপরও কমছে না সিন্ডিকেটের কারসাজি।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে চাল, চিনি, পোল্ট্রি ফিডসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বিশ্ববাজারে কমলেও স্থানীয় বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। বরং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির কারসাজি অব্যাহত রয়েছে।
শীতকালীন সবজির ক্ষেত্রেও একই চিত্র। কৃষকরা যেখানে ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো সবজি ২-৩ টাকায় বিক্রি করছেন, সেখানে ঢাকায় এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। এতে মধ্যস্বত্বভোগীরা মুনাফা লুটলেও কৃষকরা পাচ্ছেন না ন্যায্যমূল্য।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং প্রতিযোগিতা কমিশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। কিন্তু এতেও বিশেষ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান জানিয়েছেন, কিছু সিন্ডিকেট সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।
অন্যদিকে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার স্বীকার করেছেন যে বাজারে সিন্ডিকেট সক্রিয় এবং তাদের দৌরাত্ম্যে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। রাজধানীর খামারবাড়িতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
তবে খামারিরা মনে করেন, পোল্ট্রি ফিডের দাম কমানো হলে ডিম ও মুরগির দাম কমানো সম্ভব। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) সমীক্ষা অনুসারে, দেশের মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম ভারত এবং পাকিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে এই বাড়তি মূল্য ধরে রাখা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারের কঠোর অবস্থানের অভাবেই সিন্ডিকেটগুলো দাপটের সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।











