বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই ট্রাম্প-শি ফোনালাপের বার্তা দিল হোয়াইট হাউজ

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্যেই এই সপ্তাহে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে আসন্ন এই সম্ভাব্য ফোনালাপ নিয়ে হোয়াইট হাউজ আশাবাদ জানালেও, বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

গত সোমবার হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, “চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনার পটভূমিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট শি’র মধ্যে এই সপ্তাহেই আলোচনা হতে পারে।” বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে গত মাসে জেনেভায় সম্পাদিত একটি অস্থায়ী চুক্তি, যার বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

জেনেভার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ৯০ দিনের জন্য উচ্চ হারে আরোপিত শুল্ক হ্রাসে সম্মত হয়, যা বৈশ্বিক বাজারে স্বস্তি ফেরায়। তবে ট্রাম্পের অভিযোগ, চীন সেই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। গত শুক্রবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমি দ্রুত একটি চুক্তি করেছিলাম, কারণ মনে করেছিলাম চীনের সামনে খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে। কিন্তু এখন চীন আমাদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করেছে।”

চীন অবশ্য ট্রাম্পের এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “এই ধরনের মন্তব্য বস্তুনিষ্ঠতাকে বিকৃত করে এবং চীনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে।” একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত চিপ রপ্তানি ও চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের মতো পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট রোববার (২ জুন) সিবিএস চ্যানেলের ‘ফেইস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে জানান, ট্রাম্প ও শি’র মধ্যে ফোনালাপ শিগগিরই হতে যাচ্ছে। আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে চীনের ‘রেয়ার আর্থ’ উপাদানসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, যা প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য আদালত সম্প্রতি রায় দেয় যে, ট্রাম্প তার ‘জরুরি ক্ষমতা আইন’ প্রয়োগ করে যেসব শুল্ক আরোপ করেছেন তা অবৈধ। তবে এর ঠিক একদিন পর ফেডারেল আপিল আদালত সেই রায় স্থগিত করে এবং শুল্ক পুনর্বহাল করে। আদালত মামলার বাদীদের আগামী বৃহস্পতিবার (৫ জুন) এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে সোমবার (৯ জুন) এর মধ্যে জবাব দিতে বলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই নেতার এই সম্ভাব্য আলোচনার মাধ্যমে যদি নতুন কোনো সমঝোতা তৈরি হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। তবে চীনের রাষ্ট্রনির্ভর রপ্তানিমুখী অর্থনৈতিক মডেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বিধিনিষেধের মতো গভীর সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদে এই উত্তেজনা কাটবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।